রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মই হচ্ছে নিয়ম। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টিভিতে একাদিক নিউজের পরও টনক নড়েনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ উঠেছে, অফিসের নাইটগার্ড কাম ঝাড়ুদার সোহেলের বিরুদ্ধে।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝাড়ুদার সোহেল নিজেকে অফিসের “সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী” হিসেবে নিজেকে জাহির করছেন। তিনি সাব-রেজিস্ট্রারকে রেস্ট রুমে বসতে বাধ্য করেন। দলিল লেখকদের মাধ্যমে আসা দলিলগুলো “ঝামেলা আছে” বলে আটকে রাখেন। পরে তাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দর কষাকষি করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।
বিশেষ করে ব্যাংকের মর্টগেজ দলিল রেজিস্ট্রি করতে সোহেলের সাথে ‘চুক্তি’ ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে দলিল লেখকরা জানান। ১০ লাখ টাকার মর্টগেজে ২০ হাজার, ৫০ লাখ টাকার দলিলে ৫০ হাজার এবং এক কোটি টাকার ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকারও বেশি ঘুষ দিতে হয়। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র ও খতিয়ানের নামে সামান্য অমিল থাকলেও সোহেলের মাধ্যমে আদায় করেন অনেক টাকা।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২০২৩ সালের ২৯শে মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে সোহেলের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে অবৈধ লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্য পায়। পরে সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার লোকমান হোসেন স্মারক নং ৩৭৩(৮)২০/১০/২০২৪ প্রেষণে ঝাড়ুদার সোহেলকে কমলনগরে বদলি করলেও তিনি সেখানে যোগদান না দিয়ে রায়পুরেই বহাল থাকেন। এই ঘটনায় ২৯/১০/২০২৪ বদলিকৃত তারিখে ওই কার্যালয়ে যোগদান না করায় সাব রেজিস্ট্রার কমলনগর এর স্মারক নং ৩১৯তাং ২৯/১০/২০২৪ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক আদেশ অবহেলা করার ঘটনায় তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এত অপকর্মের পরও ঝাড়ুদার সোহেল একই জায়গায় বহাল তবিয়তে আছেন।
অন্যদিকে অফিস সহকারী ও মোহরার থাকা সত্ত্বেও ঝাড়ুদার সোহেলকে দিয়েই কমিশনি দলিলী রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন করে থাকেন সাব রেজিস্ট্রার ইউনুস। এতে দেখা যায়- সোহেল কমিশনি দলিল সম্পাদন করতে গেলে দলিল লেখকগণ সোহেলকে দিতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। টাকা না দিলে দলিল সম্পাদন হয় না।
কিছু দিন আগে রায়পুর সাব-রেজিস্টার অফিসে একটি প্রতিনিধি দল অডিট করেন। এতে দেখা যায়, বিভিন্ন দলিলে অনিয়ম করে সরকারি রাজস্ব বাদ দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন তৎকালীন সাব-রেজিস্টার। এখন আবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে- সেই বিতর্কিত সাব-রেজিস্ট্রার পুনরায় রায়পুর আসার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন।
জেলা রেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, আমি আসার আগে রায়পুর রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের কথা শুনেছি। বর্তমানে কোন অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
