নাটালি হার্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার দিন ট্রাম্পের প্রতি অন্ধ ও চরম আনুগত্য দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক অনুসন্ধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান হোয়াইট হাউস সহকারী মুছে ফেলা সাবেক টুইটার অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেদিন তিনি ট্রাম্পের সমর্থনে দেড় শতাধিক পোস্ট করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষণ শুরুর প্রাক্কালে তিনি রিপাবলিকানদের উদ্দেশে ‘ট্রাম্পের জন্য লড়াই করুন’ বলে উসকানি দেন এবং নির্বাচনে জালিয়াতির ভিত্তিহীন দাবিগুলো বারবার প্রচার করেন।
তৎকালীন ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের সঞ্চালক নাটালি হার্প সে সময় নিজেকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। ৬ জানুয়ারি সকালে ওয়াশিংটনে জড়ো হওয়া ট্রাম্প সমর্থকদের তিনি ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দেন এবং রুডি জুলিয়ানির বিতর্কিত সংঘাতের ডাককে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন। ট্রাম্প যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন হার্প এক পোস্টেই এক ডজন বার ‘ট্রাম্পের জন্য লড়াই করুন!’ লিখে পোস্ট করেছিলেন।
পরবর্তীতে ট্রাম্প সমর্থক উগ্র জনতা ক্যাপিটল ভবনে জোরপূর্বক ঢুকে পড়লে হার্প দায় এড়াতে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ান যে এতে ট্রাম্পের সমর্থকরা জড়িত নন, বরং বিরোধীরা অনুপ্রবেশ করেছে। ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া স্থগিত হলে তিনি সেই বিলম্বকে কাজে লাগিয়ে ফলাফল পরিবর্তনের পক্ষে প্রচার চালান। একই সাথে যেসব রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জো বাইডেনের বিজয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিলেন, তাদের ‘সংবিধানের সাহসী রক্ষক’ হিসেবে প্রশংসা করেন তিনি। অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে, হার্পের এই অন্ধ আনুগত্য কেবল ৬ জানুয়ারির ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৬ সাল থেকেই তিনি ট্রাম্পের প্রতি চরম ভক্তিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করে আসছিলেন। এমনকি ২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি বাইবেলের স্তোত্র উদ্ধৃত করে তার পক্ষ নিয়েছিলেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনী ফলাফলকে সরাসরি ‘অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে নাটালি হার্প পর্দার আড়ালে থেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটর জন ওসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রকাশ্যে হার্পের নাম উল্লেখ করলে তিনি নতুন করে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। পরবর্তীতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের প্রতি তার লেখা আবেগঘন ও প্রশ্নাতীত আনুগত্যসূচক চিঠির তথ্য এবং সামাজিক মাধ্যমের পুরনো পোস্টগুলো ফাঁস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নহীন আনুগত্য পছন্দ করার ট্রাম্পের যে স্বভাব রয়েছে, নাটালি হার্পের দীর্ঘদিনের ভূমিকা তারই একটি বাস্তব চিত্র।
