প্রথম আলো
‘রদবদল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদল হয়েছে। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথের পরপরই তিনজন নতুন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। একজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন মন্ত্রীর দপ্তর বদল এবং আরেকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।
এই রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সরকার-সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এটিকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নের প্রাথমিক ফল হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ এটাকে কয়েকটি শূন্য পদ পূরণ, দপ্তর পুনর্বণ্টন ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
এর মধ্যেই আবার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরেক দফা পরিবর্তন হতে পারে। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের আলোচনায় তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
এবারের রদবদলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে মন্ত্রিসভার কাঠামো নিয়ে। সম্প্রসারণ ও দপ্তর পুনর্বণ্টনের পর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে একই সঙ্গে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও একই মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রয়েছেন। তুলনামূলক ছোট কয়েকটি মন্ত্রণালয়েও রাখা হয়েছে পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃচ্ছ্রসাধনের প্রশ্ন। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতা সরকার ও প্রশাসনে একটা ইতিবাচক বার্তা গেছে। অপর দিকে মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে যাওয়ায় সেই বার্তার কিছুটা বৈপরীত্য নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
গত শুক্রবারের পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদলকে অনেকে ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের শুরুতেই ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। মন্ত্রিসভার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রয়েছেন ১০ জন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান কৃষি এবং রুহুল কবির রিজভী শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অর্থ ও পরিকল্পনা এবং ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে হুমায়ুন কবির এত দিন পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২১ আগস্ট তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাঁর দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। তবে তিনি যে আরও দুই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন, সেগুলো এখনো বহাল আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। মন্ত্রী পদমর্যাদায় নতুন করে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন।
পররাষ্ট্রে মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী
সর্বশেষ পরিবর্তনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে দুজন প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়েছে। এক মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী আগে দেখা যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রী আছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। নতুন যুক্ত হলেন হুমায়ুন কবির। দুই প্রতিমন্ত্রীর কার কী দায়িত্ব হবে, সেটা এখনো আলাদা করে জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী থাকতে অসুবিধা নেই। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সেখানে সেক্রেটারি অব স্টেট, ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট, আন্ডার সেক্রেটারি আছেন। সরকারের কাজের গতি বাড়াতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্কে মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারেন। এটা বিভিন্ন দেশের সরকারব্যবস্থায় আছে।’
ছোট মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা
মন্ত্রণালয়ের আকার, কার্যক্রম ও বাজেট বিবেচনায় তুলনামূলক ছোট কয়েকটি মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী; উপদেষ্টাও রয়েছেন। এমনকি বিশেষ সহকারীও রয়েছেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অপেক্ষাকৃত ছোট মন্ত্রণালয় হলেও এখানে একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার একজন উপদেষ্টা রয়েছেন। পাশাপাশি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন। তাঁর নাম মো. শাকিরুল ইসলাম খান।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে আছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন নুরুল হক। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন মাহদী আমিন। তিনি আরও তিনটি মন্ত্রণালয়ের (শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান) দায়িত্বে আছেন।
আড়াই মাসের বেশি সময় শূন্য থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সাচিং প্রু জেরীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাধারণত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরই প্রতিনিধিত্বই থাকে। এবার পূর্ণ মন্ত্রীর পাশাপাশি একজন প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বাইরে। তিনি মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি এর পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী হিসেবে আগে থেকে আছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। সেখানে নতুন প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে। তাঁকে নিয়ে হেফাজতে ইসলামসহ এই ঘরানার আলেমরা ইতিমধ্যে আপত্তি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার, সংস্কৃতি, পরিকল্পনা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা—তিন স্তরের নেতৃত্ব রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক বিশেষ সহকারীও আছেন।
মন্ত্রণালয়ভেদে বৈপরীত্য
সর্বশেষ পরিবর্তনে বিএনপির নির্বাচনী জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ। যদিও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ স্পষ্ট নয়।
তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জাহেদ উর রহমান। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
অপর দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনের মতো বড় তিনটি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী একজন—শেখ রবিউল আলম। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন দুজন—হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজীব আহসান।
শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট—এই তিন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীও একজন। অর্থ ও পরিকল্পনায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা রয়েছেন।
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ—এই দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন মো. আমিনুর রশীদ। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন সুলতান সালাউদ্দিন।
মন্ত্রণালয়ভেদে এমন বৈপরীত্য নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে এবং জনপরিসরেও নানা আলোচনা আছে।
ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শুরু?
মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদলকে অনেকে ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের শুরুতেই ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রথম ১৮০ দিনের অর্জন, কর্মকাণ্ড ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করছে।
অর্থাৎ ছয় মাসের কর্মমূল্যায়ন শুরু হয়েছে—এ নিয়ে সংশয় নেই। তবে গত শুক্রবারের রদবদলকে সেই মূল্যায়নের পূর্ণাঙ্গ ফল বলা যাচ্ছে না। কোন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী কোন সূচকে ভালো বা খারাপ করেছেন, মূল্যায়নের মানদণ্ড কী ছিল এবং কার দপ্তর কেন বদলানো হলো—সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
সরকারের ভেতরে সাত-আটটি মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রত্যাশিত গতি না থাকা নিয়ে আলোচনা আছে। তবে এবারের পরিবর্তনে সেটার প্রতিফলন সীমিত। এ কারণে সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি অংশ এবারের পরিবর্তনকে ছয় মাসের মূল্যায়নের ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবে দেখছেন।
অবশ্য মন্ত্রিসভায় রদবদলের পরপর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর মন্ত্রিসভার কার্যক্রমের মূল্যায়ন হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রদবদল করা হবে। ভবিষ্যতেও আবার মূল্যায়ন হবে এবং মন্ত্রিসভায় আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
দ্বিতীয় দফায় দপ্তর পুনর্বণ্টন সামনে
সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় আরেক দফা সম্প্রসারণ ও দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে। তখন কয়েকজন নতুন মন্ত্রী এবং বিশেষ করে প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন। যেসব মন্ত্রীর অধীন একাধিক মন্ত্রণালয় রয়েছে যেমন কৃষি, প্রাণিসম্পদ; বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়—এসব ক্ষেত্রে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হতে পারে।
তবে বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে। সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকা বা কতজন যুক্ত হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। চলমান কর্মমূল্যায়ন, সরকারের এক বছরের কর্মসূচি, দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা দপ্তর পুনর্বণ্টন করা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার এবং এটি সরকারের রুটিন কাজ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের একজন সদস্য নির্বাচিত হলে স্বাভাবিকভাবেই একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। সেখানে পদায়নের বিষয় আছে। খাদ্যে এত দিন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী ছিলেন না। আরও দুজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। যাঁরা শপথ নিয়েছেন, সবাই উপযুক্ত। বলতে পারেন, এটা ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন, অথবা সুচারুরূপে সরকার পরিচালনার প্রথম পদক্ষেপ।
অতীতের বড় মন্ত্রিসভার কাছাকাছি
১৯৯১ সালের পর রাজনৈতিক সরকারগুলোর মধ্যে বর্তমান ৫১ সদস্যের মন্ত্রিসভার চেয়েও বড় ছিল তিনটি মন্ত্রিসভা। ২০০৯-১৪ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় ৬২ জন ছিলেন। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা ছিল ৬০ সদস্যের এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ২০১৪-১৯ মেয়াদে ছিল ৫৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা।
সামনে নতুন সদস্য যুক্ত হলে বর্তমান মন্ত্রিসভা অতীতের বড় তিনটি মন্ত্রিসভার আরও কাছাকাছি চলে যেতে পারে।
ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নের সময় মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো, একই মন্ত্রণালয়ে একাধিক স্তরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাখা এবং বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজনের হাতে রেখে ছোট মন্ত্রণালয়েও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ—এই তিন বিষয়ই এখন সরকারের সামনে আলাদা প্রশ্ন তৈরি করছে। ফলে গত শুক্রবারের রদবদলকে চূড়ান্ত পুনর্গঠন না ধরে পরবর্তী দফার পরিবর্তনের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘নয় ঝুঁকিতে মেট্রোরেল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬-এ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর গঠিত কারিগরি নিরাপত্তা নিরীক্ষা কমিটি। এর মধ্যে অন্যতম ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বিকৃত করা। এছাড়া পিয়ার ও বক্স গার্ডারে ফাটল, ট্র্যাক ও ভূমি বসে যাওয়া, অতিরিক্ত কম্পন, ট্রেনের অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাটতিও পাওয়া গেছে।
কমিটির মূল্যায়নে এগুলো বিচ্ছিন্ন বা সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণজনিত ত্রুটি নয়। বরং নকশার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, তৃতীয় পক্ষের যাচাই, নির্মাণের মান নিয়ন্ত্রণ, গতিশীল কার্যক্ষমতা পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণের প্রস্তুতি এবং পরিচালন নির্ভরযোগ্যতায় বিস্তৃত দুর্বলতার ইঙ্গিত। কয়েকটি বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বা আন্তর্জাতিক তৃতীয় পক্ষের যাচাই শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিটি।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং কারিগরি কমিটির সদস্য ড. সামছুল হক যুগান্তরকে বলেন, এমআরটি-৬ প্রকল্পে ৯টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো সমাধানে করণীয়ও বলা হয়েছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে মেট্রোরেলের গতি কমানো হয়েছে। এতে মেট্রোরেলের কর্মক্ষমতা কমেছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত জাপানি প্রতিনিধিরা কমিটিকে জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্বোধনের তাগিদের কারণে কিছু পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, সরকারের চাহিদার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয় বাদ দেওয়া পেশাদার সিদ্ধান্ত ছিল না।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন হাসান যুগান্তরকে বলেন, জাপানিজ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে সরকার দেশীয়ভাবে কোনো কারিগরি তদারকি করেনি। তার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। অত্যন্ত জরুরি কারিগরি ইস্যু বাদ দিয়ে জাপানিজ প্রতিষ্ঠান মেট্রোরেল উদ্বোধন করেছে। কারিগরি তদন্তের ফলে আমরা তা জানতে পারলাম, সরকারকে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
মেট্রোর যত ঝুঁকি : কমিটির চিহ্নিত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে-বেয়ারিং প্যাডের বিকৃতি ও স্থানচ্যুতি, পিয়ার, কংক্রিট বেস ও বক্স গার্ডারে ফাটল, সাময়িক গতিসীমা ও নিম্নমানের যাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য, ডিপো ও ট্র্যাকের ভিত্তি বসে যাওয়া, ট্রেটজনিত কম্পন ও গতিশীল কার্যক্ষমতার ঘাটতি, নির্ধারিত স্থানের আগে ট্রেন থেমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি ও চাকার ক্ষয়, তৃতীয় পক্ষের অসম্পূর্ণ যাচাই, স্থায়ী কাঠামোগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকা, এবং রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএলের সপ্তম সভার রেকর্ড অনুযায়ী, ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।
বিস্তারিত কাঠামোগত নকশা, মডেল সিমুলেশন, ডিজাইন ক্যালকুলেশন ও ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের স্বাধীন তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই বা প্রত্যয়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের কম্পন, অনুরণন, কাঠামোগত ক্লান্তি এবং চলমান ভারের প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ গতিশীল বিশ্লেষণেও ঘাটতি পাওয়া গেছে।
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তায়ও একাধিক সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ট্রান্সফরমারের ত্রুটি, গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক কক্ষের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সমস্যা, স্পার্কিং এবং ১৬ স্টেশনের বৈদ্যুতিক ও সিগন্যালিং কক্ষে পানি প্রবেশের বিষয় রয়েছে। কমিটির মতে, এগুলো শর্টসার্কিট, আগুন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও সিগন্যালিং ব্যর্থতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নির্ধারিত স্থানের আগে ট্রেন থেমে যাওয়াকে কমিটি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর রোলিং-স্টক ত্রুটি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এ সমস্যা ও চাকার ক্ষয়ের কারণে পাঁচটি ট্রেন সেট যাত্রী পরিবহণ থেকে প্রত্যাহার করতে হয়েছিল।
কারিগরি কমিটি জানিয়েছে, তাদের পক্ষে যন্ত্রনির্ভর পূর্ণাঙ্গ গতিশীল পরীক্ষা, পুরো রুটের ট্র্যাক-জ্যামিতি জরিপ, স্বাধীন ভূ-প্রকৌশলগত অনুসন্ধান ও পুরো ভায়াডাক্টের পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত মডেলিং করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরামর্শক বা প্রত্যয়নকারী দিয়ে পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির চূড়ান্ত মূল্যায়ন হলো, এমআরটি লাইন-৬ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবহণ সম্পদ। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জরুরি সংশোধনমূলক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সমস্যাগুলোকে সাধারণ ত্রুটি নয়, বরং সামগ্রিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসংক্রান্ত সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করে কাঠামোগত মেরামত, ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন, পরিচালনগত ঝুঁকি দূর করা এবং স্বাধীন নিরাপত্তা যাচাইকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে কমিটি।
কালের কণ্ঠ
‘নতুন উদ্যমে দুদক’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের দুর্নীতির লাগাম টানতে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নবনিযুক্ত কমিশনের প্রথম বৈঠকেই বিদ্যমান জনবলকে দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সংস্থাটিকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কমিশনের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়া অনুসন্ধান ও তদন্তগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান কমিশন রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তবে দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধ করে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে পারাটাই বর্তমান কমিশনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব, যাতে দেশ থেকে দুর্নীতি লাঘব করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেই দুদকের চলমান সব ফাইল চাওয়া হয়েছে। কোন ফাইল কার বিরুদ্ধে সেটা দেখা হয়নি।
এ ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব, যাতে দেশ থেকে দুর্নীতি লাঘব করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেই দুদকের চলমান সব ফাইল চাওয়া হয়েছে। কোন ফাইল কার বিরুদ্ধে সেটা দেখা হয়নি। বর্তমান কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার নজির স্থাপন করা।
দমন-পীড়নের হাতিয়ার হতে অনাগ্রহ : দুদক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘নামমাত্র’ স্বাধীন। বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় দুদকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বেশি। এ সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি লুকানো ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের পাশাপাশি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। হাসিনা সরকারের আমলে দলীয় পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রতিটি কমিশন (চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার) গঠন করা হয়েছে। ফলে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দুদক আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদের সুরক্ষা দিয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতের সব শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও দুর্নীতির মামলা করেছে। তবে বর্তমান কমিশন দমন-পীড়নের হাতিয়ার হতে চায় না। নবনিযুক্ত কমিশন কারো নাম দেখে নয়, বরং দুর্নীতির বিষয়বস্তু দেখে অনুসন্ধান ও তদন্ত নিষ্পত্তিতে গুরুত্বারোপ করছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার: কর্মী নিয়োগে অখ্যাত এজেন্সি, ফের সিন্ডিকেটের আশঙ্কা’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়া যে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজ দিয়েছে, তার অধিকাংশই অখ্যাত। কীসের ভিত্তিতে তাদের বাছাই করা হয়েছে, তা জানায়নি দেশটি। এর আগেও দুবার সীমিত সংখ্যক এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল মালয়েশিয়া, যা পরবর্তী সময় সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পায়। এক পর্যায়ে কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এখন নতুন করে সেই পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করায় আবার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালে তৎকালীন মন্ত্রী-এমপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের এজেন্সি কর্মী পাঠানোর কাজ পেয়েছিল। এবারের তালিকায় সরাসরি এমপি বা বিএনপির কোনো নেতার এজেন্সি নেই। তবে পাঁচ এমপি এবং এক নেতার অনুগতদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জনশক্তি ব্যবসায়ীদের একটি অংশের ভাষ্য, কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আসলে ওই নেতাদের ‘ডামি’।
তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুবদলের সহসভাপতি আতিকুর রহমান বিশ্বাসের মালিকানাধীন এজেন্সি আল-আকাবার নাম নতুন তালিকায় নেই, কিন্তু তাঁর স্ত্রী সাবিহা সুলতানার মালিকানাধীন ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ারের নাম রয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই ঠিকানা ফকিরাপুলের ইনার সার্কুলার রোডের শতাব্দী সেন্টার।
২০২২ সালে কুয়ালালামপুর ও ঢাকার যে ব্যক্তিরা ‘সিন্ডিকেটের’ নিয়ন্ত্রক ছিলেন, তারা এবারও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলামের। তিনি বলেন, গত বছরের ১৯ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সিন্ডিকেটবিরোধী সংবাদ সম্মেলনে হামলা করা তিন ব্যক্তির মালিকানাধীন এজেন্সি এবার কাজ পেয়েছে। তারা ওই হামলা মামলার আসামি।
আগের পদ্ধতিতেই কর্মী যাবে, তাতেই শঙ্কা
জনশক্তি ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রকদের সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, ২৫ এজেন্সি পাঁচ কোটি টাকা করে চাঁদা দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আরও ১২ কোটি করে দেবে। তবে এই টাকা কর্মী পাঠানোর সময় কর্তন করা হবে। ২০২২ সালে কর্মী পাঠানোর অনুমতি পেতে প্রতিজনের জন্য এক লাখ সাত হাজার টাকা করে দিতে হয়েছিল।
জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল সমকালকে বলেন, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ২৫ এজেন্সি বাছাইয়ের বিষয়ে জানতে চেয়ে আজ (গতকাল শনিবার) চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) থেকে এজেন্সির তালিকাটি দেওয়া। প্ল্যাটফর্মটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। দুই দেশের সরকার যখন বিষয়টি আলোচনা করছে, তখন বেসরকারি তথ্য গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এফডব্লিউসিএমএস আসলে মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম, যেটি পরিচালনা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এর প্রধান নির্বাহী দাতো আমিনুল ইসলাম বিন আবদুর নূর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ার নাগরিক। আমিন নূর নামে পরিচিত এই বিতর্কিত ব্যবসায়ীসহ প্রতিষ্ঠানটির আট কর্মকর্তা ২০২২ সালের আগস্টে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
মালয়েশিয়ার বতর্মান উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি যখনই ক্ষমতায় ছিলেন, তখনই বেস্টিনেট কাজ পেয়েছে। যদিও তিনি বরাবরই বেস্টিনেটের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফেরার পর আমিন নূর আদালতের মাধ্যমে মুক্তিও পেয়েছেন।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধনের মাইগ্রামের ব্যবস্থাপনায়ও ছিল বেস্টিনেট। ২০২৪ সালে সমকালের অনসুন্ধান অনুযায়ী, এটিই ছিল টাকা আদায়ের ফাঁদ। এতে কর্মীপ্রতি ১০০ রিঙ্গিত দিয়ে নিবন্ধন করতে হতো। বাংলাদেশ অংশে এর নিয়ন্ত্রণ করতেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন। বায়রার সাবেক এই মহাসচিব ৫ আগস্টের পর থেকে বিদেশ রয়েছেন। আগেরবার মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় তাঁর প্রতিষ্ঠানসহ ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে বর্তমান সরকার।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২০২১ সালে দুই দেশের সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দেড় হাজার এজেন্সির একটি তালিকা পাঠায়। যেখান থেকে ২৫টি এজেন্সি বাছাই করে মালয়েশিয়া। কর্মীপ্রতি ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ হাজার টাকা। কিন্তু সিন্ডিকেটের চাঁদা, ভিসা কেনাসহ কর্মীদের গড়ে পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছিল বলে মালয়েশিয়ার শ্রম সংগঠনের জরিপে তথ্য আসে। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত বিপুল ব্যয়ে চার লাখ ৭৬ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে অনেকে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। এসব অনিয়মের পর ২০২৪ সালের ৩১ মে শ্রমবাজার বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার, যা এখনও বন্ধ। প্রায় ১৭ হাজার কর্মী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও সেবার মালয়েশিয়া যেতে পারেননি।
ইত্তেফাক
‘গ্যাস-সংকটে ব্যাহত কাগজ উত্পাদন, লোডশেডিংয়ে গতিহীন ছাপাখানা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, আগামী শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো নিয়ে নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব জটিলতার কারণে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট ও চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি এক শ্রেণির ছাপাখানা মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা করার লোভ ও নিয়ম লঙ্ঘণের প্রবণতা এই জটিলতাকে আরো ঘণীভূত করেছে।
বিভিন্ন ছাপখানা সূত্রে জানা গেছে, দেশে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে কাগজ খাতের কারখানাগুলোর উত্পাদন ক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। কাগজ সংকটের পাশাপাশি চলমান লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে আগামী মার্চের আগে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাক্প্রাথমিকের ৩০টি লটের জন্য ১১টি প্রেস পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেয়েছে। ইতিমধ্যে তারা বই ছাপানোর কাজ শুরু করেছে।
কিন্তু বই ছাপার কাজে কাগজের সংকট ও লোডশেডিং একটি অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুটি ছাপাখানার মালিক গতকাল ইত্তেফাককে জানিয়েছে, পাঠ্যবই যেসব প্রেসগুলোতে ছাপা হয়, তার বেশির ভাগ রাজধানীর বাইরে, গ্রামে অবস্থিত। ছাপাখানার বড় বড় মেশিন চালাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ প্রয়োজন হয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে প্রেসের কাজ সময়মতো এগুচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত ৭০ দিনে কাজ শেষ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এর পাশাপাশি এক শ্রেণির ছাপাখানার মালিকরা পাঠ্যবই ছাপাতে নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা বই ছাপাতে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করছেন। এই অভিযোগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ইন্সপেকশন এজেন্ট দুটি ছাপাখানার ১৩২ টন নিম্নমানের কাগজ বাতিল করেছে। এর মধ্যে আনন্দ প্রিন্টার্সের ১১০ টন এবং অনুপম প্রিন্টার্সের ২২ টন কাগজ বাতিল হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু গতকাল ইত্তেফাককে জানান, বইয়ের মান নিশ্চিত করতে এবং নিম্নমানের কাগজ ও মুদ্রণ রোধে এনসিটিবি এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা অনিয়মে জড়িত হবে তাদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হবে। পরপর তিন বার শোকজ নোটিশপ্রাপ্ত ছাপাখানার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।
এছাড়া, কাগজের অনুমোদন ছাড়াই এবার পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু করেছে কয়েকটি ছাপাখানা, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নির্ধারিত প্রাইমারির ইন্সপেকশন এজেন্ট ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজিম মুনির গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘কাগজের মান ঠিক না থাকলে অনুমোদন দেওয়া হবে না। ম্যাপ পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের সরবরাহ করা কাগজের উজ্জ্বলতা নির্ধারিত মানের চেয়ে কম। কাগজও বেশি মোটা। এ কারণে এই কোম্পানির কাগজও গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া, এবার ‘টিকে পেপার মিল’ ও ‘ম্যাপ পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেড’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাগজের ওজন (জিএসএম) ও পুরুত্ব, কাগজের আলো প্রতিরোধক্ষমতা (অপাসিটি) ও কাগজের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা (বার্স্টিং ফ্যাক্টর) নিম্নমানের পাওয়া গেছে। যে কারণে এই কোম্পানির কাগজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।’ মো. সিরাজিম মুনির আরো জানান, নিম্নমানের কাগজের ব্যাপারে ছাপাখানা ও কাগজের মিল মালিকরা একে অন্যকে দোষারোপ করছেন। ছাপাখানার মালিকরা বলছেন, মিল মালিকরা নিম্নমানের কাগজ দিয়েছে। অন্যদিকে, কাগজের মিল মালিকরা বলেন, ছাপাখানার মালিকরা কম টাকায় নিম্নমানের কাগজ দিতে বলেছিলেন।
এনসিটিবি জানায়, মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের জন্য এবার উজ্জ্বলতা (ব্রাইটনেস) ৮৫ শতাংশ, বার্স্টিং ফ্যাক্টর ১৮ এবং অপাসিটি ৮৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাক্প্রাথমিক পাঠ্যবইয়ে ব্রাইটনেস ৮৫ শতাংশ, বার্স্টিং ফ্যাক্টর ২০ ও অপাসিটি ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০ কোটি ৬১ লাখ বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে আহ্বান করা ৫৯৬টি লটের মধ্যে প্রায় ৬০টিতেই মাত্র একটি করে প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, বড় কাজের প্রায় ৯০ শতাংশই ৮ থেকে ১০টি ছাপাখানার মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি লটে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে বেশি দর প্রস্তাবের তথ্যও মিলেছে। এতে সরকারি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও সামনে আসছে। দেশে ছোটবড় সহস্রাধিক ছাপাখানা থাকলেও সরকারি বই ছাপার কাজে প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে। কম প্রতিযোগিতায় বাড়ছে সরকারি ব্যয়ের ঝুঁকি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি সঙ্কটে থমকে আছে শিল্প’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে গ্যাসসঙ্কট এখন আর শুধু আবাসিক গ্রাহক কিংবা সিএনজি স্টেশনের সমস্যা নয়; এর সরাসরি অভিঘাত পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, রফতানি এবং বিনিয়োগে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না, অন্য দিকে শিল্প কারখানাগুলোকে উৎপাদন কমাতে হচ্ছে। ফলে গ্যাসের ঘাটতির প্রকৃত মূল্য দিচ্ছে উৎপাদক, শ্রমিক, রফতানিকারক এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তারা।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটিতে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ ছিল। সাধারণ সময়ে এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতো। ৬ আগস্ট এটি আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল। কিন্তু ১৯ আগস্ট আবার এলএনজি মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি বিপুল: বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০-৪০০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সাম্প্রতিক সঙ্কটের সময় সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ একপর্যায়ে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ১১ আগস্ট দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা রাত ১২টার দিকে ১৭ হাজার ৫২৩ মেগাওয়াটে উঠলেও সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট। ফলে সর্বোচ্চ ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। এর আগে রাত ৯টায় চাহিদা ১৮ হাজার ৪৩ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৫ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমে যায়। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক দু’টি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারেনি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালাতে হচ্ছে। কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক হিসাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় যেখানে প্রতি ইউনিট প্রায় ৩ টাকা ৪৮ পয়সা, সেখানে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় প্রায় ১৮ টাকা ৫৯ পয়সা অর্থাৎ পাঁচ গুণেরও বেশি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দায়ও পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর: গ্যাস ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকারকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করা, বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ব্যবস্থা বিদ্যুতের চাহিদা কমালেও শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় না। বরং উৎপাদনের সময় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি আরো কঠিন। গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কটে কোথাও ১০-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। জুলাইয়ের শেষ দিকে শিল্পকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে ২০-৫০ শতাংশে নেমে আসে বলে শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো জানিয়েছিল।
ক্যাপটিভ বিদ্যুৎও এখন অনিশ্চিত: বাংলাদেশের শিল্প খাতের বড় একটি অংশ জাতীয় গ্রিডের পাশাপাশি ক্যাপটিভ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান জ্বালানি গ্যাস। ফলে গ্যাসের চাপ কমে গেলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ থাকলেও কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে শিল্পে মাসিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ৪৩৩ কোটি ঘনফুট; ২০২৫ সালে তা কমে হয় প্রায় ৩৭৪ কোটি ঘনফুট। একই সময়ে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রে মাসিক সরবরাহ প্রায় ৪৬৭ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৩৯৯ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প ও ক্যাপটিভ খাতে সরবরাহ আরো কমেছে বলে তিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় শিল্পকারখানাকে বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ প্রতি লিটার ডিজেলের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত খরচ করার কথা জানিয়েছেন।
বণিক বার্তা
‘৫৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি পরিশোধ করেছে সরকার’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়া বাড়িয়েছে সরকার। কেবল চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই (জুলাই) ব্যাংক খাত থেকে সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে।
ট্রেজারি বিল-বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে নেয়া হয়েছে এ ঋণ। তবে একই সময়ে সরকার সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধও করেছে। সে হিসাবে গত জুলাইয়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেয়া নিট ঋণ ছিল ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
দেশের মুদ্রাবাজারের গতিপ্রকৃতি, সুদের হার ও তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে ‘মানি মার্কেট ডিনামিকস’ নামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রকাশনাটির সর্বশেষ সংখ্যা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস তথা জুলাইয়ে সরকারি ট্রেজারি বিলের চারটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নিলামের মাধ্যমে বাজার থেকে মোট ৪৪ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়, যা আগের মাসের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে মূলত স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয় সরকার। বর্তমানে প্রচলিত আছে ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিল। জুলাইয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে একই মেয়াদি বিলের ৩৯ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ ট্রেজারি বিলে সরকার গত মাসে ঋণ নিয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড নিলামের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২ থেকে ২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মোট তিনটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামের মাধ্যমে বাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয় সরকার। একই সময়ে এমন বন্ডের ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে জুলাইয়ে ট্রেজারি বন্ডে সরকারের নিট ঋণ ছিল ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বলছে, পাঁচ-সাত বছর আগে থেকেই সরকার ঋণের ফাঁদে পড়া শুরু করেছিল। ঋণ নিয়েই সরকারকে ঋণ শোধ করতে হচ্ছে। রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঋণের ভার আরো ভারী হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বিদেশী ঋণ পরিশোধের চাপ।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে সরকারকে ঋণের জোগান দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব। আমরা কেবল সে দায়িত্ব পালন করছি। এ ঋণ কীভাবে পরিশোধ হবে, সেটি সরকারকেই ভাবতে হবে।’
আরিফ হোসেন খান আরো বলেন, ‘সরকার প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। তাই ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ঋণনির্ভরতা সত্ত্বেও সরকার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে। এতে সরকারের ঋণ কমার কথা নয়। বরং সময়ের সঙ্গে এ ঋণ আরো বাড়বে, এটিই স্বাভাবিক।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের মাসের তুলনায় জুলাইয়ে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহারও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত ৫ জুলাই ৯১ দিন মেয়াদি বিলের ইল্ড (সুদহার) ছিল ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২৬ জুলাই এ ইল্ড বেড়ে ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশে উন্নীত হয়। চারটি নিলামের মাধ্যমে ৯১ দিন মেয়াদি বিলের মাধ্যমে সরকার ঋণ নিয়েছিল ২০ হাজার কোটি টাকার। একইভাবে ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের সুদহারও জুলাইয়ে বেড়েছে। মাসের শুরুতে ১৮২ দিন মেয়াদি বিলের ইল্ড ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা ২৬ জুলাই ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে পৌঁছে। এছাড়া জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড দাঁড়ায় ১০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে।
প্রতি বছরের বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করে সরকার। সর্বশেষ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থবছর শেষে সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্য বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বাজেটের চেয়েও ব্যাংক থেকে সরকার বেশি ঋণ নিয়েছে। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেয়া ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৩৪ শতাংশেরও বেশি। যদিও একই সময়ে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। বেসরকারি খাতে বিরাজমান ঋণ খরা বর্তমানে আরো তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। তবে এসব প্যাকেজের বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি।
ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের অতিমাত্রার নির্ভরতা বেসরকারি খাতকে নাজুক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক অর্থ সচিব এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সরকারের আয়ের সক্ষমতার তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি। এ কারণেই ব্যাংক থেকে ঘোষিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার বেশি হওয়ায় এ ঋণের পেছনে সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে। ব্যয় কমিয়ে এনে আয় বাড়ানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘জাতীয় সংসদ: সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ছয় মাস পেরিয়ে গেল। এর মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসেছে দুইবার। মন্ত্রিসভার রদবদলও হয়ে গেল একবার। কিন্তু সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনের গতি খুবই ধীর। ৫০টি কমিটির মধ্যে ছয় মাসে গঠিত হয়েছে মাত্র ১৫টি।
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি ও জবাবদিহির আওতায় রাখতে কাজ করে সংসদীয় কমিটিগুলো। তাই কমিটি গঠনে দেরি হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কাজে জবাবদিহির জায়গায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও বিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনের মধ্যে কমিটিগুলো গঠনের সুযোগ আছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংসদীয় কমিটি গঠনে দেরি হওয়ার অর্থ হচ্ছে সরকারি কর্মকাণ্ড তদারকিতে একধরনের বিলম্ব ঘটছে।
তবে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সব কমিটি শিগগির গঠিত হবে।
জাতীয় সংসদের সংসদীয় কমিটি রয়েছে ৫০টি। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি আছে ৩৯টি এবং বিষয়ভিত্তিক কমিটি ১১টি। এখনো পর্যন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত ৯টি এবং বিষয়ভিত্তিক কমিটি ৬টি।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংসদীয় কমিটির প্রধান দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা, অনিয়ম ও গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করা। বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া বা সুপারিশ করাও সংসদীয় কমিটির কাজ। নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহি করতে কমিটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পরে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদে ক্ষমতাসীনদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। তাই ওই দুই মেয়াদে সরকারি ও বিরোধী দলের মতবিরোধের কারণে সংসদীয় কমিটি গঠন করতে দেরি হয়।
দেশ রূপান্তর
‘ঢাবি শিক্ষকদের রহস্যময় তালিকা, দায় নিয়ে বিতর্ক’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি তালিকা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ তালিকা সিন্ডিকেট সভা হয়ে তদন্ত কমিটির কাছে পৌঁছালেও দায়িত্ব স্বীকার করছেন না কেউ। কীভাবে নাম বাছাই হলো, কারা তালিকাটি করলেন? এমনকি অভিযোগের ধরন নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি অংশকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেই হঠাৎ করে এমন তালিকা করেছেন বর্তমানে প্রভাবশালী কয়েকটি পক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৮ জুলাই সিন্ডিকেট সভায় মোট ২৩১ শিক্ষকের একটি তালিকা উপস্থাপন করা হয়। এই শিক্ষকরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধী ছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে সেই তালিকার বড় একটি অংশ কোনো সময়েই রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিন্ডিকেট সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। এ কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। এ কমিটি তালিকা সংক্ষিপ্ত করে ১২৫ জনে নামিয়ে আনে। তবে এরপর কী ঘটছে তা নিয়ে মুখ খুলছেন না তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এমনকি তালিকা প্রাথমিক ও দ্বিতীয় তালিকা কারা কীভাবে করেছেন, সে ব্যাপারেও কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষকদের প্রভাবশালী তিনটি গ্রুপের বিরুদ্ধে তালিকা করায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠলেও তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
তালিকার বেশ কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে জানান, তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতির নতুন মেরুকরণের শিকার। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধী বলে দাবি করা হলেও তালিকার অনেক শিক্ষকের কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কখনো ছিল না। আবার আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত নীল দলের সক্রিয় অনেক সদস্যের নাম নেই তালিকায়।
বেশ কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, সাধারণত বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে কয়েক বছর নির্বাচন বন্ধ থাকলেও এবার আগামী ডিসেম্বরে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই নির্বাচনে প্রতিপক্ষ সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকদের চাপে রাখতে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রুদ্ধ করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায় আকস্মিকভাবে এ তালিকা করা হয়েছে। বিএনপিপন্থি সাদা দল, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও জামায়াতপন্থি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লিংক এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘চাপে মন্ত্রীরা, আসছে আরও রদবদল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই শুরু হয়েছে মন্ত্রিপরিষদের রদবদল। শুক্রবার শপথ নিয়েছেন চারজন নতুন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী। জহিরউদ্দিন স্বপনকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আরও একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ছাড়াও এখন পররাষ্ট্রে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে থাকছেন। সামনে আরও রদবদল আসছে। এ পরিস্থিতিতে বেশ চাপে পড়েছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের প্রথম ছয় মাসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে। পূর্বপ্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন তাঁর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কাজের মূল্যায়ন শুরু করেছেন তিনি। ফলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় এমপিদের প্রতি এলাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কাজের গতি বাড়ানোর কড়া নির্দেশনা রয়েছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রতি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর নজরদারির কারণে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এই বাড়তি চাপের মধ্যে পড়েছেন। তাই অলসতা বাদ দিয়ে সবাই এখন কমবেশি কাজে মন দিয়েছেন। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টা চলছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই ছয় মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি সরকার। এ সময়ের মধ্যে প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নের টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানবিশেষে অনেক সংসদ সদস্যকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে তাঁদেরও দিন কাটাতে হচ্ছে ব্যস্ততার মাঝে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দলীয় নির্বাচনি ইশতেহারকে সরকারি ইশতেহার হিসেবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অফিসেও প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট প্রতিদিন পর্যালোচনার সংস্কৃতি চালু করেন। সকালে সচিবালয়ে বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটুকু হলো, তা এখন সন্ধ্যা নাগাদ অথবা পরের দিন তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে অবহিত করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ ও ‘কুইক রেসপন্স’ নীতিতে মন্ত্রিসভার অনেক সিনিয়র সদস্যও ব্যাপক চাপের মুখে আছেন।
জানা যায়, প্রতিদিন ন্যূনতম গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা অফিশিয়াল কর্মসম্পাদন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর কর্মগতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। গলদঘর্ম হচ্ছেন সচিবালয়সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সবাই সদাসতর্ক। অলসতা ত্যাগ করে সবাই এখন কাজকর্মে মনোনিবেশের চেষ্টা করছেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনস্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি সরকারি ছুটির দিনেও অফিস করেন।
জাতীয় সংসদের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছেও এমপি-মন্ত্রীদের জবাবদিহির বিষয়ে সতর্ক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, কাউকেই অন্যায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে মন্ত্রী-এমপি প্রত্যেককে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর সভার মধ্য দিয়ে মন্ত্রীদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক সব কার্যক্রম যেমন সামনে আনা হবে, তেমনি সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোকেও দল ও নেতা-কর্মীদের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র আরও জানায়, সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপে আছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সরকারকে একদিকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে টার্গেট অনুযায়ী দলের দেওয়া রাজনৈতিক ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন। তা ছাড়া রয়েছে ঢাউস আকৃতির নতুন উন্নয়ন বাজেট। দীর্ঘদিন পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য এ বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্যরে ভিতরে বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাবনিকাশ ও বিচারবিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রণীত এবারের জাতীয় বাজেট-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন, হিন্দু পুরোহিতসহ ধর্মীয় যাজকদের সম্মানি ভাতা, হেলথ কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন রকমের নতুন ও বাড়তি ব্যয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিপূর্ণ বিশালাকৃতির এই বাজেট বাস্তবায়ন এখন সরকারের সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
