ইরানের ওপর প্রায় ৫০ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে এবার এমন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানান, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র “কখনো দেখা যায়নি এমন” অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োগ করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের পর তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনার পর থেকেই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর এসব নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো দেশটির শাসকগোষ্ঠীর ‘বিরোধিতামূলক আচরণ’ প্রতিহত করা, সীমিত করা এবং পরিবর্তনে উৎসাহিত করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে, তার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোকে সবচেয়ে বিস্তৃত ও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
ইরানের ওপর মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ব্যাপক। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের সঙ্গে প্রায় সব ধরনের মার্কিন বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইরানি সরকারের সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং ইরানকে বিদেশি সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিছু মানবিক ও যোগাযোগসংক্রান্ত ব্যতিক্রম রয়েছে।
২০১৩ সালে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে খাদ্য, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারে।
সিআরএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানিদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা সীমিত করার চেষ্টা করলে নাগরিকদের সেই বিধিনিষেধ পাশ কাটাতে সহায়তা করা।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলা এসব নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন পদক্ষেপগুলো কতটা কঠোর হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
