ইরান সংঘাত গভীর হওয়ায় স্বর্ণ-রুপার দাম বেড়েছে ভারত ও আন্তর্জাতিক বাজারে

ইরান সংঘাত গভীর হওয়ায় স্বর্ণ-রুপার দাম বেড়েছে ভারত ও আন্তর্জাতিক বাজারে

ফন্ট সাইজ:

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ফলে তারা দ্রুত বুলিয়ন বা মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন। ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ায় শেয়ারবাজার ও অন্যান্য অস্থির সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ বিনিয়োগে ব্যবহার করছেন তারা। এই প্রবণতা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই দৃশ্যমান। ভারতের অনলাইন এনডিটিভি এ খবর দিয়ে বলছে, মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিই)-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্বর্ণের দাম শতকরা ২.৮৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রুপার দাম বেড়েছে ২.৯৯ ভাগ। সোমবার ভারতে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১,৭৩,০৯০ রুপি, যা আগের সেশনে ছিল ১,৬২,৪৯০ রুপি। বুলিয়নস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রুপার দামও বেড়ে প্রতি কেজি হয়েছে ২,৯৪,৯০০ রুপি। যা শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ছিল ২,৮২,১৪০ রুপি। এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে রয়েছে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি। তেহরান একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়ার পর উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। সপ্তাহান্তে পাওয়া প্রতিবেদনে জানা গেছে, হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো টার্গেট করা হয়েছে। ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। তাৎক্ষণিক এ সংঘাতের বাইরে, গত কয়েক মাসে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও এতে ভূমিকা রেখেছে।
সরবরাহজনিত বিঘ্ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাই হলো একটি প্রধান বুলিয়ন বাণিজ্য কেন্দ্র এবং ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। উত্তেজনার জেরে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। ফলে সেখান থেকে স্বর্ণ পাঠানো সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। নিরাপত্তা ও বীমা সংক্রান্ত কারণে সাধারণত স্বর্ণ আকাশপথে আমদানি করা হয়। বিমান চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে দেশীয় বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দামের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপা

আন্তর্জাতিক বাজারেও বুলিয়নের দাম শক্তিশালী হয়েছে। সোমবার প্রাথমিক লেনদেনে স্পট গোল্ড শতকরা ২ ভাগ পর্যন্ত বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩৬৮.০৯ ডলারে পৌঁছায়। এই দাম চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস শতকরা ২.৫৮ ভাগ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩৮২.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রুপার দামও ঊর্ধ্বমুখী। স্পট সিলভার শতকরা ১.৬৮ ভাগ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯৫.৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট- এই তিনটি কারণ একত্রে স্বর্ণ ও রুপাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বাজারে আরও অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন