রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা মোতায়েন

বড় সংকটে পাকিস্তান?

রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা মোতায়েন

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর রাওয়ালপিন্ডিতে ছয় মাসের জন্য সেনাবাহিনীর তিনটি কোম্পানি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। ‘সংবেদনশীল নিরাপত্তা দায়িত্ব’ পালনের জন্য এসব সেনা মোতায়েন হচ্ছে বলে পাক স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে জানানো হয়েছে।

তবে রাওয়ালপিন্ডিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পেছনে ঠিক কী ধরনের নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে, তা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে পাকিস্তানের রাজনীতিতে অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসনের ইতিহাস থাকা দেশটিতে এই পদক্ষেপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২১ আগস্ট জারি করা ওই আদেশটি পাকিস্তানের সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের অধীনে দেয়া হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যায়।

খবরে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ২২ জুলাইয়ের একটি চিঠির ভিত্তিতে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ছয় মাস বহাল থাকবে।

দেশটির সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাওয়ালপিন্ডি জেলা প্রশাসনকে যেকোনো ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ মোকাবিলা এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সেনারা সহায়তা করবে।
আদেশটির অনুলিপি কেন্দ্রীয় ও পাঞ্জাব সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পাশাপাশি সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সেনা মোতায়েনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, হুমকি বা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন জানিয়েছে, রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাদের ‘সংবেদনশীল নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট’ দায়িত্ব দেয়া হবে। এআরওয়াই নিউজও জানিয়েছে, মোতায়েনের সময় বেসামরিক প্রশাসনকে নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তা করবে সেনাবাহিনী।

তবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি কিংবা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন- কোনোটিতেই তিনটি সেনা কোম্পানির ঠিক কী দায়িত্ব থাকবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এর ফলে আগামী ছয় মাস রাওয়ালপিন্ডির জেলা প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নিশ্চিত হলেও, এর পেছনে থাকা প্রকৃত নিরাপত্তা মূল্যায়ন বা হুমকির বিষয়টি এখনও গোপনই রয়ে গেছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রাওয়ালপিন্ডি?

রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স (জিএইচকিউ) অবস্থিত। এটি দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। শহরটি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রও।

ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেয়া হলেও কোনো নির্দিষ্ট হুমকি বা ঘটনার কথা প্রকাশ না করায় এই পদক্ষেপের প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।