মৌলভীবাজারের ৪টি আসন

জয়-পরাজয়ে ‘ফ্যাক্টর’ চা শ্রমিকদের ভোট

ফন্ট সাইজ:

বাবুজি হামরাতো মরিয়া মরিয়া বাঁচি। হামাদেরতো কেউ দেখে না। যে হামাদের সুখ-দুখ দেখবে হামরা তাদের ভোট দেবো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার ৯২টি চা শ্রমিকদের দাবি ও প্রত্যাশা এমন। তারা বলছেনÑ ভোট দিতে যাবেন তবে এই ভোটে যেন তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন আসে। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত আর হওয়া নয়। তারা চান তার বাস্তবায়ন। পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলা। প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির রাজ্য মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৯২টি চা বাগান। বরাবরই ভোটের জয়-পরাজয় চা শ্রমিকদের ভোটই বড় ভূমিকা রাখে। চা শ্রমিকদের ভোট যেদিকে যায় ওই দল ও প্রতীকের প্রার্থীই বিজয়ী হন। এজেলার ৪টি আসনের প্রার্থীরা তাই সব সময়ই সেই বিষয়টি মাথায় রেখে অগ্রাধিকার দিয়ে এই নির্দিষ্ট ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে তাই প্রার্থীরা নিজ নির্বাচনী আসনের প্রতিটি চা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের দাবি-দাওয়া ও সুখ-দুখ মনোযোগসহকারে শুনছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। প্রার্থীরা বাগানগুলোতে নিয়মিত ‘উঠান বৈঠক’ করছেন। চা শ্রমিক নেতারা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দৈনিক মজুরি পুনঃনির্ধারণ। দীর্ঘদিনের দাবি ‘ভূমি অধিকার’Ñ নিশ্চিত করা। বাগান এলাকায় উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন। বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ অগ্রাধিকার দিয়ে মৌলিক অধিকারের এ বিষয়গুলো দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তুলে ধরছেন। শ্রম আইন বাস্তবায়ন। তারা বলছেনÑ প্রার্থীরা ভোটের আগে বাগানগুলোতে আসেন এবং নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পর আর তাদের খোঁজ-খবর রাখেন না। তারা বলছেন- যিনি তাদের দাবির প্রেক্ষিতে নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন এবার তাকেই তারা ভোট দেবেন। তবে চা বাগানের ভোটারদের মধ্যে হ্যাঁ বা না ভোট নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। গণভোটের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নেই দৃশ্যমান প্রচার প্রচারণা। তবে পিছিয়ে পড়া চা জনগোষ্ঠী আগের তুলনায় এখন তাদের জীবনমান ও শিক্ষার হার বেড়েছে। চা শ্রমিকদের সন্তানরা এখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে পড়ালেখা করছেন। জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম চা বাগান মৌলভীবাজার-৩ আসনে। আর মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে সবচেয়ে বেশি। মৌলভীবাজার-৪ আসনের দু’টি উপজেলায় ৩৩টি চাবাগানে চা শ্রমিক ভোটার রয়েছেন প্রায় লক্ষাধিক। জয়ের ক্ষেত্রে সবসময়ই এই আসনে সবচেয়ে বড় ‘ফ্যাক্টর’ চা শ্রমিকরা। ফ্যাসিস্ট আমলে চা বাগানেও ভোটের প্রভাব ছিল। দিনের ভোটে রাতে হওয়ায় অনেক চা শ্রমিক ভোটারই ভোটকেন্দ্রে যেতে হয়নি। এর আগেই তারা খবর জেনেছেন তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। তাছাড়া নানা হুমকি ও ধমকিতে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী হতেন না। দীর্ঘদিন পর তারা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে এবার তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং নিজের ভোট নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দিবেন। ভোটের দিন চা শ্রমিকদের ছুটি থাকায় তারা দলবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে থাকেন। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যেই তাদের ভোট দান সম্পন্ন হয়ে থাকে। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে একই সঙ্গে তাদের শৃঙ্খলিত দীর্ঘ লাইনের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। এমন দৃশ্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ঐতিহ্য।
মৌলভীবাজারের চার আসনেই জয়-পরাজয়ে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ৯২টি চা বাগানে প্রায় ৩ লক্ষাধিক চা শ্রমিকদের ভোট। ভোটের অংকে বড় একটি অংশ চা শ্রমিক হওয়ায় ভোট এলেই বাড়ে চা শ্রমিকদের কদর। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানায় জেলার ৪টি আসনে ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। জেলার ৪টি আসনে মোট ভোটার ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন