কক্সবাজার-৪ আসন (উখিয়া-টেকনাফ) ঘিরে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই উপজেলায় অর্ধশতাধিক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ভোট সচেতন একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবীন ও প্রবীণ প্রার্থী হলেও এলাকায় দু’জনেরই পরিচিতি রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শাহজাহান চৌধুরী উখিয়া-টেকনাফের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে ভোটারদের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন বলে মত অনেকের। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতৃত্ব, সংগঠন ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয়তা ধানের শীষের পক্ষে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ আসনে এনডিএম থেকে এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে মাওলানা নুরুল হক প্রার্থী হলেও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রচারণাই ছিল দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী। বিশেষ করে শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে উখিয়া-টেকনাফে ধারাবাহিক উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সোমবার মধ্যরাত থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উখিয়া-টেকনাফের ১১৫টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫২টি ভোটকক্ষে মোট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন, পুরুষ ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন। এ ছাড়া ৩ হাজার ৮৬৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে ২৭টি ও উখিয়ায় ৩২টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। উখিয়ার রাজাপালং এলাকার ভোটার মোহাম্মদ কাসেম বলেন, যিনি সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, তাকেই আমরা ভোট দেবো। টেকনাফ পৌর এলাকার গফুর উল্লাহ জানান, এবার দখলদার ও চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাতে চাই। ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমি উখিয়া-টেকনাফের পরীক্ষিত নেতা। জনগণ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে ধানের শীষকেই বেছে নেবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোট নিশ্চিত করা গেলে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর
নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবিও জানান। অপরদিকে অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী তার কর্মী-সমর্থকদের হয়রানির অভিযোগ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার দাবি জানান। সবমিলিয়ে ভোটারদের বড় অংশ মনে করছেন, চারজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে ধানের শীষের শাহজাহান চৌধুরী ও দাঁড়িপাল্লার নুর আহমদ আনোয়ারীর মধ্যেÑ যেখানে মাঠ, সংগঠন ও অভিজ্ঞতায় বিএনপি প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
কক্সবাজার-৪ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া থেকে
১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
