চট্টগ্রামে বিডা, এডিবি ও সানেমের আয়োজনে শিল্প জরিপবিষয়ক কর্মশালা

চট্টগ্রামে বিডা, এডিবি ও সানেমের আয়োজনে শিল্প জরিপবিষয়ক কর্মশালা

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (স্যানেম)-এর যৌথ উদ্যোগে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে ‘সার্ভে অব ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, চেম্বার অব কমার্সসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। কর্মশালায় জরিপের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, সম্ভাবনাময় খাত ও বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিতকরণ, ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা এবং তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে অংশীজনদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।ইতিহাসের বই ও প্রামাণ্যচিত্র অন্বেষণ করা

বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘সার্ভে অব ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ’ বিডার নেতৃত্বে, এডিবির অর্থায়নে এবং স্যানেমের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত একটি উদ্যোগ। এর লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং একটি ব্যাপক ও হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা, যা সরকারকে প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে। এ উদ্যোগের আওতায় মোট আটটি বিভাগীয় কর্মশালার একটি হিসেবে চট্টগ্রামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রধান অতিথি ছিলেন বিডার নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) মো. হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবিদা সুলতানা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জরিপের পটভূমি ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির একটি বাস্তবসম্মত ও পরিবর্তনশীল চিত্র পাওয়া যাবে।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমানে বিডা, বিনিয়োগ উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা, চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিনিয়োগকারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যকে একটি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডারে নিয়ে আসা গেলে বিডা ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করতে পারবেন, বিভিন্ন শিল্পের পরিবর্তন বুঝতে পারবেন এবং কোথায় বেশি মনোযোগ ও সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। ভালো নীতি প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জরিপের মাধ্যমে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

সানেমের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জুবায়ের হোসেন জরিপের পদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, বিনিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে বিডা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাই এ জরিপের উদ্দেশ্য। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের তথ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেসব তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প পরিস্থিতি তৃণমূল পর্যায় থেকে বোঝা এবং জরিপ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মশালা করা হচ্ছে। বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে করা প্রাথমিক মানচিত্রায়ণে দেখা গেছে, দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ কার্যক্রম ভৌগোলিকভাবে বেশ অসম। এর বড় অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। অথচ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রংপুরের মতো বিভাগগুলো এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্ব করছে।

জুবায়ের হোসেন বলেন, এ জরিপ একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা। এর মাধ্যমে বিডা বিনিয়োগকারীদের তথ্য সংরক্ষণ, নিয়মিতভাবে তাদের কার্যক্রম অনুসরণ এবং কর্মসংস্থান ও সনদসংক্রান্ত তথ্যসহ বিনিয়োগকারীদের প্রোফাইল তৈরি করতে পারবে। এতে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে বোঝা ও সমাধান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে এসব তথ্য যাচাই করা হবে। ইতিমধ্যে সানেম এফবিসিসিআই, এমসিসিআই ও ডিসিসিআইসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কর্মশালায় অংশ নেওয়া অংশীজনদের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

জুবায়ের হোসেন আরও বলেন, জরিপ ও বিভাগীয় কর্মশালার ফলাফল সমন্বিত করে বিডার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার মূলত নীতিনির্ধারণের কাজে ব্যবহৃত হবে, তা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য নয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান নীতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়নেও এ জরিপ সহায়তা করবে।

চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবিদা সুলতানা বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরিপ ও সঠিক তথ্যের গুরুত্ব কোনোভাবেই বাড়িয়ে বলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত তথ্য এবং নারী উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের জরিপের মাধ্যমে খাতটির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।

আবিদা সুলতানা বলেন, চট্টগ্রামকে বন্দরনগরী ও বাণিজ্যের শহর হিসেবে পরিচিত করা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা অনেক সময় সেই পরিচয়ের সঙ্গে মেলে না। এ জরিপের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের সামনে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যথাযথ তথ্যের অভাবে অনেক নারী উদ্যোক্তা ও তাদের পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো দৃশ্যমান নয়।

চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তার বক্তব্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের ধরন তুলে ধরেন। বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মূল দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে ডলারকেন্দ্রিক।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ধরন বোঝাতে তিনি ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের নীতিগত পরিবর্তনের উদাহরণও তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় তিনটি খাত হিসেবে কৃষি, তৈরি পোশাক (আরএমজি) এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে গুরুত্ব দেন। তার মতে, তৈরি পোশাক খাত দেশের বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনেকের আগ্রহ থাকলেও শ্রমিকের প্রাপ্যতা ও সমুদ্রপথে যোগাযোগের সুযোগের মতো বিষয় বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নির্ভর করে দেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে কতটা প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক প্রস্তাব তুলে ধরা যাচ্ছে তার ওপর।দৈনিক খবরের ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন নেওয়া

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা স্যানেমের গবেষণার অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে শুধু ব্যয় ও সময়সীমার দিকে নজর না দিয়ে গবেষণার বিষয়টিকেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে জরিপ পরিচালনার জন্য তিনি বিডাকেও ধন্যবাদ জানান। তার আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আরও আধুনিক ও উন্নত একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এডিবি বাংলাদেশের পাবলিক সেক্টর ইকোনমিস্ট তাসনিম আলম বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এ জরিপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের হাতে প্রায় তিন বছরের একটি বাফার সময় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রয়োজন নিরূপণ করা জরুরি।

তাসনিম আলম বলেন, বেসরকারি খাত মূলত নিজেদের প্রচেষ্টায় বিকশিত ও টিকে রয়েছে। তবে এখন বাংলাদেশে ব্যবসা করার পরিবেশ আরও সহজ করার সময় এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হলেও তথ্যের পুনরাবৃত্তি ও লাইসেন্সসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রস্তুত বিনিয়োগকারী প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফর করে শহরটির বিনিয়োগ সম্ভাবনা, ভূমিকা এবং দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে এর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব সম্ভাবনা যথাসময়ে কাজে লাগানো না হলে বড় ধরনের বিলম্ব হতে পারে। তাসনিম আলম বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের গতি বাড়াতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে চায়। বিশ্বজুড়ে তথ্যনির্ভর পদ্ধতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশের সমাজেও এ ধরনের সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, নতুন প্রজন্মকে এআই ও এ-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং তাঁদের দক্ষ করে তুলতে হবে। মানুষ নিজে শেখার চেষ্টা না করলে এবং পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার না দিলে উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি দক্ষ জনশক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, দেশে বিপুলসংখ্যক স্নাতক থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীর ঘাটতি রয়েছে। তরুণদের সহজলভ্য বিভিন্ন সুযোগ ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মোহাম্মদ আমিরুল হক নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিল্পে ফিলিপাইনের নারীদের অংশগ্রহণের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি নারীদের বড় একটি অংশকে এখনো মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্ম ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দেখা হয়। নারীদের উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

দুর্যোগ বা সংকটের সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। তার মতে, অবকাঠামো ও দক্ষতা উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে বাংলাদেশিরা ক্রমেই বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজবেন, দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ আরও দরিদ্র হয়ে পড়বেন এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে থাকবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এখনো অনেকাংশে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় না করে আলাদাভাবে কাজ করে। তার মতে, এ ধরনের বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার প্রবণতা আগের সময় থেকে বর্তমান এআই যুগেও রয়ে গেছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিডা আগামী দিনে যে তথ্য সংগ্রহ করবে, তা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের কাছে সহজে পৌঁছানো না গেলে সেই তথ্যও কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তাই তথ্য প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তিনি তথ্যের স্থানীয়করণ এবং সহজলভ্যতার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

ড. জিয়াউদ্দিন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও গ্রামীণ শিল্পের কথাও তুলে ধরেন। রুপা, তামা ও মসলাভিত্তিক শিল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সুবিধা এসব শিল্পের বিকাশের জন্য উপযোগী হলেও এখনো এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, দেশের সামাজিক কাঠামোর উন্নতি হলে সরকারের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতাও কমবে। বাংলাদেশকে আরও স্বনির্ভর করার উপায় খুঁজে দেখতে বিডার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, সরকার এমন পরিবেশ তৈরি না করলে বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হবে না, যেখানে অর্থ ও কৌশল কার্যকরভাবে দেশের ভেতরে ব্যবহার ও ধরে রাখা যায়।শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা

একই সঙ্গে তিনি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন আয়ের মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা হলো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে জমিতে অর্থ বিনিয়োগ করা। এটিকে দেশের অন্যতম বড় অন্তর্নিহিত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কোনো মূল্য নেই যদি সেই জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানো না যায়। বাংলাদেশের প্রকৃত শিল্পসমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিডার নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথে রয়েছে। এ পরিবর্তনের জন্য একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন এলাকার সম্ভাবনা চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে সম্পদ ও সুযোগের আঞ্চলিক বণ্টনের চিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়।ইতিহাসের বই ও প্রামাণ্যচিত্র অন্বেষণ করা

মো. হুমায়ুন কবির বলেন, দেশে বেকারত্ব বেশি হলেও অনেক পদ খালি পড়ে আছে। দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী আনতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেশে তৈরি করা গেলে এ খাতে ব্যয় হওয়া অর্থ দিয়ে কয়েক গুণ বেশি দক্ষ স্থানীয় কর্মী তৈরি করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, দেশে এখনো দক্ষতা ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য করা হয় না। তিনি বিনিয়োগ সহজীকরণের বৃহত্তর উদ্যোগ এবং বিনিয়োগকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এটি বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনার সরকারি উদ্যোগ।

মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসে (ওএসএস) বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত ও সমাধান করা এবং সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগ সহজীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করাও এ জরিপের অন্যতম উদ্দেশ্য। ‘সার্ভে অব ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ’ শুধু বিদেশি, যৌথ বিনিয়োগ ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর আঞ্চলিক বিনিয়োগ পরিস্থিতিও তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়। তাই স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জরুরি। তিনি নীতির ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দেন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার মতে, সরকার নিজে ব্যবসা করতে পারে না, তবে ব্যবসার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং নতুন পণ্য ও রপ্তানি বাজার তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তিনি চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিতভাবে তাদের সদস্যদের সরকারি সুবিধা ও সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত গবেষণা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন খাত ও জেলার অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের মতামত ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। একজন অংশগ্রহণকারী চিংড়ি ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মৎস্য খাত নিয়ে আরেকজন অংশগ্রহণকারী বলেন, চট্টগ্রাম মাছ চাষের জন্য পরিচিত এবং এ খাতের সঙ্গে মাছ প্রক্রিয়াজাতকারীদের শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে। নতুন বাজার খুঁজে বের করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, শুঁটকি উৎপাদনে তেমন বিনিয়োগ হয়নি এবং রপ্তানিও সীমিত। পর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় দেশে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ মাছও যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

একজন অংশগ্রহণকারী বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের পর্যটন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বর্তমানে বিদেশিদের জন্য কয়েকটি উপজেলা ভ্রমণে বিধিনিষেধ রয়েছে। তার মতে, আবাসন ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা গেলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, বান্দরবানে কৃষি থেকেও আয় হয় এবং সেখানে আনারসের চাষ উল্লেখযোগ্য। তবে বাজারজাতকরণের সুযোগের অভাবে উৎপাদিত পণ্যের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। তিনি রোয়াংছড়িতে কাজুবাদাম চাষের কথাও উল্লেখ করে এটিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। বান্দরবানের কৃষি ও পর্যটন—দুই খাতেরই উন্নয়নে আরও নজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে লুব্রিকেন্ট তেল পুনর্ব্যবহারের কাজ দিয়ে তার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। এ খাতে আরও কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে একটি যথাযথ জরিপব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি বলেন, অতীতে প্রতিবছর শিল্প জরিপ জমা দেওয়া হতো, কিন্তু পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ ধরনের জরিপ আবার চালুর উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত না হওয়ায় সেগুলোর কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায় না। স্বনিয়োজিত ব্যক্তি এবং ঘরে বসে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নারীরাও এর মধ্যে রয়েছেন। এসব অনানুষ্ঠানিক ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) অর্থনৈতিক অবদানকে আরও ভালোভাবে স্বীকৃতি দিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্যব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

ঔষধশিল্প নিয়ে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, চট্টগ্রামে ঔষধশিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। সময়ের সঙ্গে এ খাতে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ওঠানামা করেছে। একসময় প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও পরে কয়েকটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগে মাত্র ছয়টি ঔষধ কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে মাত্র একটি বিদেশে রপ্তানি করে।

অথচ এ খাত দেশের আনুমানিক ৪ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করে। তিনি চট্টগ্রামকে একটি ঔষধশিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে ছয়টি সরকারি হাসপাতালের উপস্থিতি এবং মিরসরাইয়ে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বাজার সম্প্রসারণ ও কাঁচামাল আমদানিতে আরও সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।

শিল্প মানচিত্রায়ণে কাজ করা এক অংশগ্রহণকারী বলেন, সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূতাত্ত্বিক ও শিল্পসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের কাজ চলছে। খাগড়াছড়ির মতো এলাকায় শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবহনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদিত হলেও পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় অনেক পণ্য সংরক্ষণ করা যায় না। আরেক অংশগ্রহণকারী বলেন, কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ তরমুজ উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারলে পুনঃরপ্তানির মাধ্যমে এ পণ্য থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

সামুদ্রিক ও মৎস্য অর্থনীতি নিয়ে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানা প্রায় ১৮ লাখ বর্গকিলোমিটার। দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) আওতায় থাকা মোট এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। মৎস্য ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের সঙ্গে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক টুনা কমিশনের ফি প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে লাইসেন্স ও নিবন্ধনসংক্রান্ত অগ্রগতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মৎস্য খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ এখনো কোরিয়া, জাপান ও নরওয়ের মতো দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এ খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তের ঋণ চালুর আহ্বান জানান তিনি।

পাহাড়ি কৃষি নিয়ে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, বান্দরবানের মতো পাহাড়ি এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে কৃষিপণ্য উৎপাদন করা যায় এবং পোকামাকড়ের কারণে ক্ষতির পরিমাণও কম। সেখানে ফল ও তামাকের উৎপাদন বাড়ছে। কাজুবাদাম চাষেও সার ও পানির প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম।

তিনি বলেন, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ খাত এখনো যথেষ্ট উন্নত হয়নি। এ ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার কাজুবাদাম শিল্প ও ভিয়েতনামের কফি শিল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

বেসরকারি খাতের মানবসম্পদ ও দক্ষ জনশক্তি নিয়ে কাজ করা এক অংশগ্রহণকারী কর্মসংস্থানের ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, দক্ষ শ্রমিক ও যন্ত্রচালকদের জন্য ই-১ ভিসা বর্তমানে একবারে মাত্র এক মাসের জন্য দেওয়া হয়। ফলে তাঁদের ঘন ঘন ভিসা নবায়ন করতে হয়।

তিনি বিডা ও পাসপোর্ট অফিসকে ভিসা প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের জন্য কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আহ্বান জানান। অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ইউটিলিটি-সংকটের কারণে কিছু প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিনিধি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) পুনরুজ্জীবিত করতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তা ও মৎস্য খাতেও এ তহবিলের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

সমাপনী বক্তব্যে বিডার নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, জরিপের ফলাফলে অংশীজনদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিডা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে কাজ চলছে, তবে এ কাজের গতি ধীর। এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধির জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সম্প্রসারণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

সমাপনী বক্তব্যে মো. হুমায়ুন কবির ভবিষ্যতে চেম্বার অব কমার্সগুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি কর্মশালায় অংশ নেওয়া সবাইকে তাঁদের মতামত ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।