ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে পেস আক্রমণে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সাদা বলের ক্রিকেটের পরাশক্তিদের এমন পরাজয়কে অনেকেই দলটির জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে দেখছেন। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে অজিদের এই বিপর্যস্ত দশা এবং হুট করে দলবদলের সংস্কৃতি নিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা।
বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও স্টিভ স্মিথদের দল নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে। জ্যাক ওয়েদেরাল্ডের জায়গায় ম্যাট রেনশকে দলে নেয়া প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম ‘কোড স্পোর্টস’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারিবিয়ানদের সোনালী যুগের পতনের করুণ ইতিহাস টেনে আনেন লারা। সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘এক-দুজন খেলোয়াড়ের অবসর সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই, যখন অনেকেই একসঙ্গে চলে যায়। ধাপে ধাপে বদল হওয়াই ভালো। যদি একসঙ্গে চার-পাঁচজন মূল ক্রিকেটার বিদায় নেয়, এই রিজার্ভ দল নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।’
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর অভিজ্ঞতা থেকে লারা ব্যাখ্যা করেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ঠিক এমনটিই ঘটে। ১৯৯১ সালের ইংল্যান্ড সফরের পর গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনের মতো কিংবদন্তিরা অল্প সময়ের ব্যবধানে দল ছেড়ে চলে যান। একঝটকায় অভিজ্ঞদের শূন্যতায় ক্যারিবিয়ানদের দাপুটে সাম্রাজ্য নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
বর্তমান অজি স্কোয়াডের অভিজ্ঞ সেনানিরা যেমন- উসমান খাজা ইতোমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন, তেমনি প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়নরাও ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে। লারার মতে, অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়দের পাইপলাইন বা ঘরোয়া পরিসংখ্যান অতটা পোক্ত নয়, যেখানে অনেক ব্যাটারের গড় ত্রিশের ঘরে। তাই সিনিয়ররা একসঙ্গে বিদায় নিলে দল গভীর সংকটে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, ‘অবসরের সিদ্ধান্তগুলো যদি ধাপে ধাপে নেয়া হয়, তাহলে সেটাই অনেক বেশি কার্যকর।’
আগামী ২২শে আগস্ট ম্যাকাইতে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষটিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনের জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে সফরকারী টাইগাররা।
