মেসির আবেগঘন গোলের দিন লাল কার্ড দেখলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান

মেসির আবেগঘন গোলের দিন লাল কার্ড দেখলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান

ফন্ট সাইজ:

ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে মেজর লীগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচটি কেবল একটি ড্রয়ের সাক্ষীই হলো না, বরং জন্ম দিলো দারুণ কিছু আবেগী ও রোমাঞ্চকর মুহূর্তের। চেস্টারের সুবারু পার্কে ইন্টার মায়ামির ২-২ গোলের এই ম্যাচে বল মাঠে গড়ায় কিছু আবেগ ও রোমাঞ্চের জন্ম দিতে।

অনুমিতভাবেই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন লিওনেল মেসি। গত ৮ই আগস্ট দীর্ঘ অসুস্থতার পর বাবাকে হারানোর পর এটি ছিল আর্জেন্টাইন জাদুকরের তৃতীয় ম্যাচ। আগের দুই ম্যাচে গোল না পেলেও ২৬ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে গোল করে খরা কাটান তিনি। ডান প্রান্তে পাস পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোণাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন তিনি।

তবে মেসির করা এই গোলটি তার ক্যারিয়ারের বাকি ৯২১টি গোল থেকে একদম আলাদা। বাবাকে হারানোর পর প্রথম গোল কি না! গোল করার পর দুই হাতের অনামিকা আকাশের দিকে তুলে প্রয়াত দাদি সেলিয়া অলিভেরা ও বাবা হোর্হে মেসিকে স্মরণ করেন তিনি।

এর আগে ২১ মিনিটে ড্যানিয়েল পিন্টারের প্রথম গোলেও দারুণ অবদান রাখেন মেসি। এই ড্রয়ের ফলে ১৩ গোল নিয়ে এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে দুই নম্বরে উঠে এলেন তিনি। মায়ামির অন্য গোলটি আসে পিন্টারের কাছ থেকে, আর ফিলাডেলফিয়ার পক্ষে গোল দুটি করেন ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভ ও নিল পিয়ের।

তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে আলোচনায় চলে আসে মাঠের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। যোগ করা সময়ের একদম শেষ দিকে মায়ামির ইয়ান ফ্রে ও ফিলাডেলফিয়ার কুইন সুলিভানের মধ্যকার একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হাতাহাতি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার ১৬ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা, কুইনের ভাই কাভান সুলিভান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রেফারি কাভান ও ইয়ানিক ব্রাইটকে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হন। হলুদ কার্ড দেখেন কুইন।

ফিলাডেলফিয়ার এই তরুণ সেনসেশন কাভান সুলিভানের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর নাড়ির টান রয়েছে। কাভান ও তার ভাই কুইন সুলিভানের নানি হলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সুলতানা আলম, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে রেকর্ড গড়া খেলা এই বিস্ময়বালক ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলেই ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেবেন। স্রেফ ১৪ বছর বয়সে এমএলএসে মাঠে নেমে গড়েন রেকর্ড তিনি। আমেরিকা বা কানাডার কোনো প্রধান পেশাদার ক্রীড়া লীগে অভিষিক্ত সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় কাভান।

এছাড়া তাদের দুই ভাই রোনান ও ডেকলান ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে লাল-সবুজের জার্সিতে দারুণ পারফরম্যান্স করেন রোনান।