বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল বাবুর

বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল বাবুর

ফন্ট সাইজ:

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি শিকদারপাড়া এলাকার কসমেটিক ব্যবসায়ী আহম্মদ বাবু (৩৭) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চলছে আহাজারি। তার দোকানের মালামাল কিনে বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তার আসার অপেক্ষায় থাকা পরিবারকে এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে তার মরদেহের জন্য।

আহমেদ বাবু আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি শিকদারপাড়া মহল্লার মৃত আদম আলীর ছেলে। আমিনবাজারের এম এ হোসেন টাওয়ারের নিচতলায় কিউট কসমেটিক অ্যান্ড জুয়েলারি’ নামে তার একটি দোকান রয়েছে। ব্যবসার প্রয়োজনে নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট বাবু পরিবারের সঙ্গে একই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১২ বছরের মেয়ে ও পাঁচ বছরের ছেলে সোয়াদকে রেখে গেছেন। তার মেয়ে মিরপুর-১২ এলাকার ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আহমেদ বাবুর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমাদের সবার ছোট ভাই ছিল বাবু। বাবা মারা গেছেন, মা বেঁচে আছেন। সবাই একই বাড়িতে থাকি। ভাইয়ের এমন অকাল মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে ওর দুই ছোট বাচ্চার জন্য। ওরা আর বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারবে না, বাবার আদরও পাবে না।
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতেও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। দোকানের জন্য কেনাকাটা শেষ করেছে বলে জানিয়েছিল। আজই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। আমরা সবাই তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। সকালে হঠাৎ জানতে পারি আগুনে সে মারা গেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসে করে দোকানের মালামাল কিনতে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন আহমেদ বাবু। সেখানে নিউমার্কেট এলাকার কমল গেস্ট হাউসে অবস্থান করছিলেন বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ভারতীয় ভিসা বন্ধ থাকায় প্রায় দুই বছর পর ব্যবসার কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। পণ্য কেনাকাটা শেষে বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই আসে তার মৃত্যুর সংবাদ।
স্বজনরা জানান, বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অগ্নিকাণ্ডে আহমেদ বাবুর নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়। পরে তার ছবি পাঠানো হলে পরিবারের সদস্যরা ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন। এরপর থেকেই বাবুর বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা।

বিশেষ করে দুই শিশুর নির্বাক মুখ যেন শোকের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। স্বজনদের দাবি, দ্রুত আহমেদ বাবুর মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা এবং কোনো ধরনের গাফিলতি থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বাবুর পরিবার ও স্বজনরা।