সিরিজ জয়ে চোখ শরিফুলের

সিরিজ জয়ে চোখ শরিফুলের

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের দাপুটে জয়। সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে চোটের কারণে স্কোয়াডে ছিলেন না শরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এই তরুণ পেসার। চোটের কারণে বাইরে থাকাকে দুর্ভাগ্য বলে দেখেন না তিনি। চোটের সময় পাওয়া বিশ্রাম ও পুনর্বাসনকে শরীরের উপকার হিসেবে দেখছেন তিনি। ম্যাকাইয়ে সিরিজের শেষ টেস্ট সামনে রেখে গতকাল মাঠে অনুশীলনের আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন শরিফুল ইসলাম। সেখানে কথা বলেন চোট এবং দলের অবস্থা নিয়ে। প্রথম টেস্টে মাঠে না থাকলেও সতীর্থদের জয়ে আবেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, স্কোয়াডে না থাকলেও ছবির মধ্যে থাকতে পেরেছেন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানান এই পেসার। শরিফুল বলেন, পুরো দল এক হয়ে খেললে জয় সম্ভব। দ্বিতীয় টেস্টেও জয়ের জন্য মাঠে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তার কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: আপনি তো প্রথম টেস্টে চোটের কারণে স্কোয়াডে ছিলেন না, পরে যোগ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দল জয় পেলো, আপনি মাঠ থেকে তা দেখেছেন। সেই সময় অনুভূতি কেমন ছিল? দলকে ও ক্রিকেটারদের এই রূপে দেখে কেমন লেগেছে?
শরিফুল: হ্যাঁ, আমার অনুভূতি হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ, মাঠের ভেতরে থেকে জয়ের অংশ হতে পেরে আনন্দ পেয়েছি। স্কোয়াডে না থাকলেও অন্তত জয়ের উদযাপনের ছবিতে তো আসতে পেরেছি! অনুভূতি কাজ করছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। দেখা যাক, দেশকে সামনে আর কত দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।
প্রশ্ন: আপনি খেলার জন্য কতোটা প্রস্তুত আছেন?
শরিফুল: আমি সব সময়ই প্রস্তুত। এখন দেখা যাক, রিজিকে থাকলে ইনশাআল্লাহ সুযোগ আসবে।

প্রশ্ন: চোটের কারণে নিজেকে কি কিছুটা ভাগ্যের ফেরে পড়েছেন মনে হচ্ছে? চোট না থাকলে তো ম্যাচটি খেলতে পারতেন।
শরিফুল: না না, ভাগ্যের ফেরে পড়েছি মনে করছি না। আসলে চোট তো আর বলে-কয়ে আসে না। যা-ই হয়, আল্লাহ উপকারের জন্যই করেন; তাই আলহামদুলিল্লাহ। চোটের কারণে কিছুদিন বিশ্রাম পেয়েছি এবং রিহ্যাব করার সুযোগ হয়েছে, যা আমার শরীরের জন্য কাজ করেছে বলে মনে করি।
প্রশ্ন: পেসাররা যখন পারফর্ম করে, তখন মাঠের বাইরে থেকে দেখতে কেমন লাগে? পেসারদের তো আলাদা এক পরিবার বলা হয়; সেই পরিবারের সদস্যরা সফল হলে নিজের কেমন অনুভূতি হয়?

শরিফুল: অবশ্যই পেসাররা ভালো করলে আনন্দ লাগে। তবে শুধু পেসাররা নয়, বাংলাদেশ দল যখন ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিনটি বিভাগেই ভালো করে, তখন আরও আনন্দ লাগে। কারণ, আমরা যখন একটা ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করি, তখনই জয় ছিনিয়ে আনতে পারি। তাই পুরো দল ভালো করাটাই স্বার্থকতা।
প্রশ্ন: আপনাদের অ্যালান ডোনাল্ডকে নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছিল। এত পারফরম্যান্সের পর উনি কি আপনাদের কোনো বার্তা দিয়েছেন বা বার্তা পাঠিয়েছেন?
শরিফুল: হ্যাঁ, উনি ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে এসএমএস দেন। আমি যখন দলের সঙ্গে যোগ দিতে এসেছি, তখন আমাকেও মেসেজ দিয়ে লিখেছিলেন, ‘তুমি চোট থেকে ফিরেছ, হয়তো পরের ম্যাচ খেলবে। তোমার জন্য শুভ কামনা রইলো।’
প্রশ্ন: প্রথম টেস্টে আপনি খেলেননি, কিন্তু আপনাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার আগের ক্রিকেটাররা বলছিলেন যে নাহিদ রানার সঙ্গে আপনাকেও তারা মিস করছেন। আপনি দলে না থেকে কতোটা মিস করেছেন?
শরিফুল: প্রথম টেস্টে আমি ছিলাম না, তবে আমি বলবো না যে আমি পিছিয়ে পড়েছি। আমি হয়তো চোটে পড়েছিলাম, কিন্তু যারা খেলেছে তাদের জন্য সবসময় দোয়া করেছি যেন তারা নিজেদের পারফর্মটা করতে পারে এবং আমরা জিততে পারি। বিশ্বাস করুন, দল যখন জিতলো, পুরো বাংলাদেশের মানুষ যতটা আনন্দ পেয়েছে, আমি হয়তো তার চেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি!

প্রশ্ন: প্রতিপক্ষের বা অস্ট্রেলিয়ার আগের ক্রিকেটাররা যখন নাহিদ রানার পাশাপাশি আপনাকে নিয়ে আলোচনা করছেন, এটি আপনার কেমন লাগছে?
শরিফুল: হ্যাঁ, অবশ্যই! অন্য দেশের খেলোয়াড়রা যখন বাংলাদেশের কোনো প্লেয়ারকে নিয়ে, শুধু আমাকে বা নাহিদ রানাকে নয়, যেকোনো প্লেয়ারকে নিয়ে কথা বলেন, সেটা আমাদের ক্রিকেটের জন্যই একটি ভালো দিক।
প্রশ্ন: দ্বিতীয় ম্যাচটি ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচ নিয়ে আপনাদের আশা কী? দল নিশ্চয়ই পুরো সিরিজটা জিততে চাইছে?
শরিফুল: অবশ্যই! কোনো দল কি চায় যে তারা সিরিজ না জিতুক? আমরাও সিরিজ জিততে চাই এবং মাঠে নেমে সেই চেষ্টাটাই পুরোদমে করবো। আমাদের লক্ষ্য থাকবে সিরিজ জয়। প্রতিটি সেশন ধরে ধরে খেলার চেষ্টা থাকবে। মাঠে নিজেদের কাজটি সঠিকভাবে করতে পারলে সাফল্য ধরা দেবে ইনশাআল্লাহ।