অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক ডারউইন টেস্ট জয়ের পর থেকেই বিশ্ব ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে এমন পারফরম্যান্সের পর থেকেই টাইগারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। ডেমিয়েন ফ্লেমিং, জেসন গিলেস্পি ও গ্লেন ম্যাকগ্রার ‘ফাস্ট বোলিং কার্টেল’ পডকাস্ট শোতেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের এই অভাবনীয় সাফল্য, যেখানে বিশেষভাবে আলোচনায় তানজিদ হাসান তামিম ও হাসান মাহমুদ।
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা ওপেনার তানজিদের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ জেসন গিলেস্পি। তার ব্যাটিং কৌশল ও শট নির্বাচনের প্রশংসা করে গিলেস্পি বলেন, ‘তানজিদের টেকনিক দারুণ। ফুল লেংথের বলে সামনে এবং শর্ট বলে ব্যাকফুটেÑ বেসিক ঠিক রেখেই সে ব্যাটিং করেছে। যখনই অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা স্টাম্পের বাইরে বল করেছে, সে সুযোগ নিয়েছে। সেঞ্চুরিটা তার একদম প্রাপ্য ছিল।’ তবে এই ম্যাচের মূল আকর্ষক ছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংস (৬+৩) মিলিয়ে টাইগার পেসার একাই তুলে নেন ৯ উইকেট। তার নিয়ন্ত্রিত ও নিখুঁত বোলিংয়ে মুগ্ধ সাবেক অজি পেসার ডেমিয়েন ফ্লেমিং কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রার ছায়া দেখতে পেয়েছেন। ম্যাকগ্রার সামনেই ফ্লেমিং মন্তব্য করেন, ‘হাসান মাহমুদ পারফেক্ট লেংথে বোলিং করেছে। আমি জানি না তুমি (ম্যাকগ্রা) কোনো হাইলাইট দেখেছ কি না, সে একদম ম্যাকগ্রার মতো বোলিং করেছে। একটানা দারুণ লাইন-লেংথ বজায় রেখে ব্যাটসম্যানকে সামনে খেলতে বাধ্য করেছে এবং বল দিয়ে বেশ ভালোই বিপদে ফেলেছে।’ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই সাফল্যকে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বড় এক ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন খোদ গ্লেন ম্যাকগ্রা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভালোবাসে।
দলটি সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়াতে আসে ২৩ বছর আগে। সম্ভবত তারা ভালো করতে পারবে না ভেবেই অস্ট্রেলিয়া এত বছর ঘরের মাঠে তাদের আমন্ত্রণ জানায়নি। কিন্তু তারা এসে যেভাবে পারফর্ম করলো, তা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যই দারুণ এক বার্তা।’ ম্যাকাইয়ে আগামী শনিবার শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও বাংলাদেশ দল এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই সাবেক তারকারা। ডারউইনের এই জয় কেবল একটি টেস্ট জয় নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
