খুলনায় মব সৃষ্টি করে গণপিটুনি দিয়ে রাজু শিকদার (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু
হয়। মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার রায়ের মহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়ের মহল এলাকায় একটি শিশুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল রাজু শিকদার। এ সময় তাকে দেখে স্থানীয় কয়েকজনের লোক ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে তাকে আটক করে কয়েকজন মারধর শুরু করেন। পরে তা গণপিটুনিতে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পিতা নজরুল বিশ্বাস বলেন, ‘তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
নিহত রাজুর বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার পাড়িয়াডাঙ্গা গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাজু শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার সঙ্গে নিহত যুবকের পূর্বপরিচয় ছিল। তবে কী কারণে তিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ছিলেন, তা তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘‘ছেলেধরা’ সন্দেহ না পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করা হয়েছিল কি না তা পরিস্কার নয়। ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।’ এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আড়ংঘাটা থানার এসআই রতন জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ আহত রাজুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পথিমধ্যে রাজু অসুস্থ হয়ে পড়লে পুনরায় তাকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজুর মৃত্যু হয়।
এসআই রতন আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় গেলে মিলন ও জিল্লু নামে দু’জনকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের হাসপাতালের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থেকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে বাচ্চা চুরির অভিযোগটি সত্য কি না এবং গণপিটুনির ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে
পুলিশ।
এদিকে রাজুকে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহতের যুবকের পিতা নজরুল বিশ্বাস গণমাধ্যকে বলেন, ‘ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেউ ফোন করে রাজুকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর দুপুরের দিকে রায়ের মহল এলাকায় তাকে আটক করে মারধর করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘রাজু ফুলতলা বাজারে জমজম বস্ত্রালয়ে সেলসম্যান হিসাবে কাজ করতো। প্রতিদিন সকালে দোকানে গিয়ে রাতে বাড়ি ফিরতেন।’
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও তাদের জানা ছিল না।
ফুলতলা বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজুর মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়ে থাকলে ঘটনার দিন সকালে কারা তাকে ফোন করেছিল, কললিস্ট পরীক্ষা করে তা বের করা সম্ভব। এতে তাকে কে বা কারা ডেকে নিয়েছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটিকে হাসান গাজী নামে এক ব্যক্তির চার বছরের মেয়ে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে রাজু শিশুটিকে অপহরণের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যেও শিশুটির সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয়ের কথা বলা হয়েছে।
