ছাগলনাইয়ায় তিন সন্তানের জননী মানসিক প্রতিবন্ধীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতুব্বরেরা সালিশ বসিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্তদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও করে। একইসঙ্গে তিনজনকে জুতার ১০টি করে বাড়ি ও গলায় জুতার মালা দিয়ে ঘুরানো হয়। যদিও সালিশের বাদী কেউ ছিল না। তারপরও নিজেরা বাদী, নিজেরাই সালিশদার সাজেন কথিত বিচারে। তবে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার গণধর্ষণের সঙ্গে অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামের সাকিব (১৮), ইয়াছিন (১৬) ও আরমান (১৫)। তারা পেশায় টমটম চালক। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ছাগলনাইয়ায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার শুভপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায় তিন সন্তানের মা মানসিক প্রতিবন্ধী তার এক সন্তানকে স্কুল থেকে নিতে বাড়ির সামনে গেলে স্থানীয় সাকিব, আরমান ও ইয়াছিন জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজনে মিলে ধর্ষণ করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ওই মহিলাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। রাতেই তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে অভিযুক্ত ও গ্রাম্য মাতুব্বররা বাধা দেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। ?ঘটনাটি জানাজানি হলে কয়েকজন মঙ্গলবার সকালে সালিশ বৈঠকে বসেন। এর আগে স্থানীয় ছয়ঘরিয়া মুনাফ নুরানি মাদ্রাসায় জিলানী মজুমদারের নেতৃত্বে আবারো সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে আবুল হাসেম বাসন, কালাম ড্রাইভার, মো. ফকির, নবি সর্দার, মো. মোশাররফ, সিরাজুল ইসলাম আলাকি, দিদারুল আলম, মোশাররফ, সুমন ও রুহুল আমিন সালিশদার হিসেবে বিচার পরিচালনা করেন। সেখানে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া তিনজনকে ১০টি করে জুতার বাড়ি দিয়ে মুচলেকা নেন মাতব্বররা। একপর্যায়ে সবার গলায় জুতার মালা দিয়ে ঘুরিয়ে ধর্ষণে যুক্তদের ছেড়ে দেন সালিশদাররা। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আলম জানান, গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সালিশে মীমাংসা সম্ভব নয় বলে তিনি ওই বৈঠকে অংশ নেননি। ?পরবর্তীতে বিষয়টি ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের নজরে এলে তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ?ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
