সাভারের আশুলিয়ায় চুক্তি ভঙ্গ করে পাওনা পরিশোধে বিলম্ব এবং শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে দু’টি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল আশুলিয়ার বাইপাইল মোড় এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে ‘ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেড’ এবং ‘ইনজেনিটেক্স অ্যাকটিভ লিমিটেড’ কারখানার ভুক্তভোগী শ্রমিকসহ সাধারণ শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করে অবিলম্বে তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবি জানান। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হলে শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা। ভুক্তভোগী শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে চুক্তি ভঙ্গ করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করছে।
এর ফলে ভুক্তভোগী শ্রমিক ও তাদের পরিবারে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করেন, পাওনা পরিশোধে কর্তৃপক্ষের এই টালবাহানা শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। মানবন্ধন থেকে শ্রমিকরা ৫ দফা দাবি তুলে ধরে চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত সকল পাওনা পরিশোধ, বিলম্বের কারণ স্পষ্ট করা, শ্রমিকদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা, সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ এবং সমস্যা সমাধানে শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর আলোচনার দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে শ্রমিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন, আশুলিয়ার শিমুলতলায় অবস্থিত ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেড এবং জিরাবোর কাঠগড়ায় অবস্থিত ইনজেনিটেক্স অ্যাকটিভ লিমিটেড গত এপ্রিল মাসে বন্ধ হয়ে যায়। দু’টি কারখানায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ১২০ জন শ্রমিককে পাওনা পরিশোধের পর অন্য শ্রমিকদের টাকা দেয়া বন্ধ আছে। অনেকের পাঁচ থেকে ছয় মাসের বেতনসহ অন্যান্য পাওনাদি বকেয়া আছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুই দফা চুক্তি হলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো পাওনা বুঝে পাননি। এতে শ্রমিক ও তাদের পরিবাররা আর্থিক অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম বলেন, দু’টি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট একই। এর মধ্যে কিছু শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। আমরা মালিকপক্ষকে চাপ দিচ্ছি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম অধিদপ্তরে মামলা করা হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটা মালিকপক্ষ মেনে নেবে।
