রাবি’র কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মারামারির ঘটনায় আম্মারের মামলা

ফন্ট সাইজ:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনের নামে মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন আম্মার। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ, মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত ও ভাঙচুরসহ ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাকসু’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলী আদালতে এ মামলাটি করেছেন আম্মার। মামলার বাদী সালাহউদ্দিন আম্মারের আবেদনে পাঁচজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে।

তারা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আখতারুল ইসলাম। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২৭শে জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের জিএসের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আম্মার ছাড়াও রাকসু’র তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা মেহেদী আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দেয়া দরখাস্তে আম্মার উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তিনি রাকসু’র জিএসের অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন।

এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবৈধভাবে সমবেত হয়ে তার অফিসের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে তার ২০২ নম্বর অফিস কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। অভিযোগে বলা হয়, অফিসে প্রবেশের পর অভিযুক্তরা আম্মারের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসু’র তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সাকিবকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

আদালতে দেয়া দরখাস্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসু’র এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, আমি যতটুকু জানি তা হলো মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে এবং এটা বর্তমান পিবিআই-এর তদন্তাধীন পর্যায়ে আছে।
পিবিআই মামলাটি তদন্ত শেষ করবে; এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মামলার ব্যাপারে আম্মার বলেন, আমার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয় যে, জাস্ট ফর কনসার্ন আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা গেম খেলবে সরকার। এজন্য আমার সম্পাদকদেরকে ইনভলভ করে একটা মামলা করেছি। এটা শুধু কনসার্ন করে রাখা। এ ছাড়া আর কিছু না।