নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দৈনিক মানবজমিনের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দিকী সিয়ামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মোবাইল ফোনের ভিডিও ফুটেজ মুছে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকেও হেনস্তার অভিযোগ উঠে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল এবং পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গভীর রাতে আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকপন্থি এবং সিনিয়র সহ-সভাপতিপন্থি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি সিয়াম বলেন, ছাদের দিকে মারামারি, উচ্চবাচ্য ও চিৎকারের শব্দ শুনে সাংবাদিকতার জায়গা থেকে সেখানে কী হচ্ছে তা দেখতে যাই। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ লাইট বন্ধ হয়ে যায়। আমি লাইট অন করতে গেলে আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের রোম্মান ও আরেকজন আমাকে ধাক্কা দেয়। এর কিছুক্ষণ পর দেখি সভাপতি-সেক্রেটারির গ্রুপ সিনিয়র সহ-সভাপতির গ্রুপকে ধাওয়া দিয়ে হল থেকে নামিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট দিয়ে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি দেখার জন্য আমি তাদের পেছনে যাই এবং সেখানে ভিডিও করতে গিয়েছিলাম। তখন আইন ১৯তম আবর্তনের রোম্মান, বাংলা ১৭তম আবর্তনের আতিক, ইকোনমিক্স ১৮তম আবর্তনের তানভীর এবং ফিজিক্স ১৮তম আবর্তনের ফয়সাল আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।
রোম্মান আমাকে ধাক্কা দিয়ে মোবাইল দেখাতে বলে। মোবাইল বন্ধ থাকার পরও তারা জোরপূর্বক ফোন আনলক করায় এবং ফোনে থাকা ভিডিও ফুটেজ মুছে দেয়। পরে আমি কোথাও ভিডিও পাঠিয়েছি কি না তা নিশ্চিত হয়। সবকিছু মুছে দেয়ার পর তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ না করার হুঁশিয়ারি দেয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, তারা দু’জনেই নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য। আমরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিবো। নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, আমি এসব বিষয়ে অবগত নই। এ বিষয়ে বিস্তারিতও জানি না। তবে আমি বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে বলতে পারবো। নোবিপ্রবি প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
