নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে নিহতের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯)। এরআগে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার ফাতেমা বেগম বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করতো, ঘুম যেতো না, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করতো, মাকে ঘুম যেতে দিতো না বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ফেলে তাকে হত্যা করেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে ঘটনার পরপরই পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী মাকে একমাত্র আসামি করে মামলা নেয়া হয়।
