বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মারোগ্যা পাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ‘সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’ প্রকল্পে প্রায় ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো পাড়ার মানুষের পানির সংকট নিরসনের বদলে মাত্র একটি পরিবারের বাড়ি ও মুরগির খামারকেন্দ্রিক এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ‘সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’ প্রকল্পের আওতায় কাজটি নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), নাইক্ষ্যংছড়ির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের পানি প্রকল্প সাধারণত একটি পাড়া বা এলাকায় একাধিক পরিবারের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নেয়া হয়। কিন্তু সোনাইছড়ি মারোগ্যা পাড়ায় প্রায় ১২ লাখ টাকার প্রকল্পটি হ্লা থোয়াইচিং মারমার পরিবারের বাড়ি ও মুরগির খামারকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, উপকারভোগী নির্বাচন এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পাড়ার অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যায় ভুগছে। অথচ পুরো এলাকার মানুষের কথা বিবেচনা না করে একটি পরিবারের জন্য বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে কী ধরনের জরিপ করা হয়েছে, কতোটি পরিবারকে সম্ভাব্য উপকারভোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এসব বিষয় তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ প্রকল্পের শ্রমিক মহিউদ্দীন জানান, আপাতত মুরগি ফার্ম ও পাশে আশ্রমের পানি সরবরাহের জন্য কাজ করতে বলেছে। আমি লাইনে পানি সরবরাহের কাজটি করে দিলাম; তবে আশপাশে বাড়িঘর কম আছে। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শাহ আজিজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, যেসব এলাকায় মানুষের পানির সমস্যা রয়েছে, সেসব এলাকায় সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। সাধারণত একটি পাড়া বা মহল্লায় একাধিক পরিবারের উপকারের জন্য এ ধরনের প্রকল্প নেয়া হয়। সেখানে ১০ বা তার বেশি পরিবার থাকলে তাদের পানির চাহিদা বিবেচনা করা হয়। শুধু একটি পরিবারের জন্য এ ধরনের প্রকল্প দেয়া হয় না।
তিনি আরও বলেন, মারোগ্যা পাড়ায় একটি পরিবারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগটি আপনাদের মাধ্যমে এই প্রথম জানতে পারলাম। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। নিয়মের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
