রংপুরের পীরগঞ্জের বড় আলমপুর ইউনিয়নে ভিডব্লিউ-এর তালিকায় দুস্থদের নাম থাকলেও তারা জানেন না। তাদের বরাদ্দ নিয়মিত উত্তোলন করেন অন্যজন। ওই ইউনিয়নে দরিদ্র পরিবারের ২০ জন উপকারভোগী মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পীরগঞ্জের ৭নং বড় আলমপুর ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি (ঠডই) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মোট ১৭৫ জন উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে ২০ জন উপকারভোগীর তালিকায় নাম থাকার পরও টানা ২ বছর চাল পাননি। ওই ইউনিয়নের ছোট রসুলপুর গ্রামের নায়েবুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. আসমা বেগম, একই গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী রুমি বেগম, খষ্টি গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী গোলাপি বেগম, আলতাফ আলীর স্ত্রী গোলাপি বেগম, রামনাথ কুমার রায়ের স্ত্রী ববিতা রানী, বিশু চন্দ্রের স্ত্রী তৃপ্তি রানীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমাদের নামে চালের বরাদ্দ হয়েছে, আমরা এখন জানলাম।
এই বিষয়ে আমাদের কেউ অবগত করেনি। অনেকদিন আগে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা এনআইডি কার্ড, ছবি নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ইউপি সদস্যদের নিকট বরাদ্দের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা জানায়- বরাদ্দ হয়নি, আসলে পাবেন। এই তালিকায় আরও আছেন, বাঁশপুকুরিয়া গ্রামের মামুদুল ইসলামের স্ত্রী নাছিমা বেগম, আকুবেরপাড়ার রবিউলের স্ত্রী মোরশেদা বেগম, ফতেপুর ফকিরা গ্রামের তারিকুল ইসলামের স্ত্রী সিনথিয়া বেগম, বড়আলমপুর গ্রামের আলমগীরের স্ত্রী কুলছুমা বেগম, খষ্টি গ্রামের রেজা মিয়ার স্ত্রী নার্গিস আক্তার, আব্দুল মমিন মিয়ার স্ত্রী চম্পা বেগম, আবু বকরের স্ত্রী শামীমা আকতার, সফিকুলের স্ত্রী পোষাগী বেগম, পাটগ্রামের সবুজ মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম, সাইফুল ইসলামের স্ত্রী গোলসেন আরা, ছোট উজিরপুর গ্রামের আবু রায়হান মিয়ার স্ত্রী রুজিনা বেগম, মোস্তাফিজার রহমানের স্ত্রী পিয়ারী বেগম, হোসেনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের স্ত্রী বানেছা বেগম, তাতারপুর গ্রামের ফছিয়ার রহমানের স্ত্রী পারভীন বেগম এবং শিমুলবাড়ি গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী আদুরি বেগম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়ন ও খাদ্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সেলিম জানান, তালিকা প্রণয়ন কাজের সময়ে আমি ছিলাম না। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মল্লিকা পারভীন জানান, তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন, অনিয়মের বিষয়টি তিনি জানেন না। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, ‘যারা মাল পায় না, তাদেরকে আমার অফিসে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন-বিষয়টা আমি দেখবো।’
