বিলীনের পথে কুলাউড়ার শতবর্ষী বাজার

বিলীনের পথে কুলাউড়ার শতবর্ষী বাজার

ফন্ট সাইজ:

নদীগর্ভে বিলীনের পথে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী কাউকাপন বাজার। বাজারের এক পাশের দোকানপাট ও মার্কেট মনু নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে। জানা যায়, কালের সাক্ষী শতবর্ষী বাজারটি ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে কয়েক দফায় নদীভাঙনে বাজারের একপাশের দোকানপাট চলে গেছে মনু নদীর গর্ভে। নতুন করে দেখা দিয়েছে বাজারের সঙ্গে সংযোগকারী মানুষ ও যানবাহন চলাচলের একমাত্র সড়কটিও। গত এক মাস আগে নদীর পানির তোড়ে বাজারের মধ্যে বয়ে যাওয়া পাকা সড়কের বেশ কিছু জায়গা দেবে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এখানে কোনো বাজার বা সড়ক নেই, মনু নদীর পাড়ে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছেন গুটিকয়েক ব্যবসায়ী।

ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি একসময় ছিল আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। বাজারের দুই পাশে ছিল অসংখ্য দোকানপাট ও ছোট-বড় মার্কেট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিরচেনা চিত্র। ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে শুরু হয় মনু নদীর তীব্র ভাঙন। একের পর এক ভাঙনে বাজারের একপাশের প্রায় শতাধিক দোকানপাট ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কাউকাপন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিধান চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক মখলিছুর রহমানসহ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারটি দফায় দফায় নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেটুকু রয়েছে সেগুলো রক্ষা করা আগামীতে কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া এতদাঞ্চলের লোকজনের রাজনগর উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির কিছু অংশ নদীতে দেবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অনেক সময় পায়ে হেঁটেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে লোকজনকে।

তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই বাজারের বাকি অংশও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, নদীর ভাঙন রোধ করতে স্থায়ীভাবে একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল সেক্ষেত্রে প্রচুর জায়গার দরকার, সেখানে স্থানীয়দের মালিকানা জায়গা থাকায় আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল তারা জায়গাগুলো একওয়ার করে দিতে। কিন্তু জায়গার মালিকরা জায়গা দিতে অনেকটা অনীহা প্রকাশ করায় কাজটি করা যায়নি। তারা জায়গা দিতে রাজি হলে নদীভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করবো।