সময় থাকলেও ধান কেনা বন্ধ

সময় থাকলেও ধান কেনা বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

গাইবান্ধায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের শেষ সময় নির্ধারিত আছে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধান সংগ্রহ অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ। এতে বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। বাংলাদেশ কৃষক সমিতির জেলা শাখার সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, কৃষকের গোলায় এখনো ধান আছে, অথচ খাদ্য বিভাগ ধান কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ মোটা ধান ৮৫০ টাকা ও চিকন ধান ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধান ক্রয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দিশাহারা। আমরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ধান কেনা অব্যাহত রাখার দাবি জানাচ্ছি।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৫৬৩ টন। গত ৩রা মে থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা শুরু হয়, যা চলার কথা ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ৯ই আগস্ট থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয় গাইবান্ধা খাদ্য বিভাগ। সূত্রটি আরও জানায়, জেলার ১১টি খাদ্যগুদামে ধান ও চালের মোট ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার টন। যার মধ্যে বর্তমানে মজুত রয়েছে ৩৯ হাজার টন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ টন।

বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ টন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের কৃষক মিল্লাত হোসাইন জানান, এ বছর তার জমিতে প্রায় ২০০ মণ বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ মণ পরিবারের খাওয়ার জন্য রেখে বাকি ১৪০ মণ ধান বিক্রি করে সংসারের দায়দেনা মেটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সময়সীমা পার হওয়ার আগেই ধান কেনা বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু মুঠোফোনে জানান, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে ধান ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে।