খোলা আকাশের নিচে পুড়ছে শিশুদের স্বপ্ন

খোলা আকাশের নিচে পুড়ছে শিশুদের স্বপ্ন

ফন্ট সাইজ:

প্রায় ৭৫ বছর আগে স্থাপিত বিদ্যালয়টি আজ শ্রেণিকক্ষ সংকটে মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করেছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বৃষ্টি, রোদ কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই খোলা আকাশের নিচে স্বপ্ন বুনতে গিয়ে পুড়ে যাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। পুরাতন ভবন ভেঙে নেয়ার ১০ মাস কেটে গেলেও নতুন ভবন কিংবা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ না নেয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে ফলে শিক্ষার মান পড়েছে সংকটে। জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন খরখরিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৫২ সালে। একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও নানা সংকটে বিদ্যালয়টি মুখ থুবড়ে পড়ার মতো উপক্রম হয়েছে। বিদ্যালয়ে ১তলা বিশিষ্ট ২টি ভবন থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় ১০ মাসে আগে একটি ভবন ভেঙে নিলাম করা হয়।

১০ মাস আগে ভবনটি ভেঙে ফেলা হলেও শিশু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ না করায় খোলা আকাশের নিচেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। রোদ, বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে ১৮১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৭টি শ্রেণিকক্ষ দরকার হলেও রয়েছে মাত্র ১টি, ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে তবুও খোলা আকাশের নিচে স্বপ্ন বুনছে শিশু শিক্ষার্থীরা তবে সেই সফলতার স্বপ্ন বুনতে গিয়ে পুড়ছে তাদের শিক্ষার পরিবেশ।

অভিভাবকরা বলেন, খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এটাই হচ্ছে আমাদের সন্তানদের শিক্ষা, তাই দ্রুত ভবন নির্মাণ বা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানান, খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে কষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলন চন্দ্র বলেন, অবকাঠামোর অভাবের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাঠদান দিতে সমস্যা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান সরকার বলেন, নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।