সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার ঘটনায় বাংলাদেশে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নতুন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটি সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে করা নতুন মামলা প্রত্যাহার এবং সংবাদ সংগ্রহ ও সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিপিজে জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আলাদা মামলায় ২০২৪ সাল থেকে আটক থাকা ওই তিন সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট দেশীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন দমনে সাংবাদিকরা ভূমিকা রেখেছিলেন। ওই আন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে ‘উসকানিমূলক’ প্রশ্ন করেছিলেন। এর জেরে হাসিনা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন অভিযান শুরু হয় বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে শুধু প্রশ্ন করার কারণে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা অত্যন্ত আপত্তিকর ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্পাদনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষপাতদুষ্ট বা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করে এবং গণতন্ত্র হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
কুনাল মজুমদার অবিলম্বে তিন সাংবাদিককে মুক্তি দেয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সিপিজে বলছে, তাদের ই-মেইলে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়।
