‘মার্কিন স্থল অভিযান’ মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরান!

‘মার্কিন স্থল অভিযান’ মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরান!

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে ইরানে স্থল হামলা চালাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাই চলমান যুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি বলেছেন, দেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তার বাহিনী প্রস্তুত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে আবারও লড়াই শুরু হওয়ায় সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। তবে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ সোমবার শেষ হয়। এর মেয়াদ না বাড়ানোর পক্ষে পরিষ্কার মত জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ওদিকে জাভানি বলেন, শত্রুরাই যুদ্ধ শুরু করেছে। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রতিরক্ষামূলক। তবে তা এখন আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে। আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। তবে সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিপক্ষকে ‘কৌশলগত বিস্ময়’-এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গত সপ্তাহে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র বা তার আঞ্চলিক মিত্রদের জ্বালানি নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইন্টারনেট সংযুক্ত ব্যবস্থা সহ অবকাঠামো হতে পারে তেহরানের সম্ভাব্য টার্গেট। ওয়াশিংটন ইরানে সামরিক অভিযান চালালে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে ইরানের কট্টরপন্থী রাজনীতিক ও সংবাদমাধ্যমগুলো। বিশ্লেষকরা এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ও এর ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে- এমন সাম্প্রতিক কোনো ইঙ্গিত নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধের ওপর ইরানের এই জোর দেয়ার ঘটনা ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গত সপ্তাহে আইআরজিসির কয়েকজন পুরোনো সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা পদে নিয়োগ দিয়ে নিজের ক্ষমতা আরও সুসংহত করেছেন। খামেনি বলেছেন, মেজর জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক করা হলে তার নেতৃত্বে ‘সর্বোচ্চ মাত্রার প্রতিরোধ’-এর পাশাপাশি ‘শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযান’-এর প্রস্তুতিও থাকতে হবে।