এবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনায় ‘বাধা দেয়’ তাহলে তাদের ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। ফক্স নিউজকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ফোন সাক্ষাৎকারের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ওমানকে ওই হুমকি দিয়েছেন। ওদিকে তিনি ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখন নতুন করে শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ আছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান পৃথকভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ। এর আগে সোমবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কারণ দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হচ্ছে সোমবার। এদিন ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিবিসির এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি এমওইউ-এর মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না।’
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে ওমানের অবস্থান। দেশটি এই সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে ইরানের বেশ কয়েকটি হামলার শিকার হয়েছে ওমান। একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে ওমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে ওয়াশিংটনও নিজস্ব উদ্যোগে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইংস্ট ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেছেন- ট্রাম্প বলেছেন, ওমান যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব। তবে ট্রাম্পের কাছে তার চুক্তির প্রচেষ্টায় ‘বাধা হয়ে দাঁড়ানো’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা স্পষ্ট নয়।
ফক্স নিউজকে দেয়া একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে। আইআরজিসি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি। তবে আইআরজিসির এক মুখপাত্র ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করেছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেয়া এক বক্তব্যে ওই মুখপাত্র বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমেরিকানদের কোনো আলোচনা চলছে না। ট্রাম্পের এই মিথ্যাচার যুদ্ধের পরাজয় ও হতাশার কারণে তার ভ্রান্ত কল্পনা ও দুঃস্বপ্নের ফল।
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে তেহরান জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরই ওমানকে হুমকি দেন ট্রাম্প।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, পণ্য পরিবহনের পথের মানচিত্র নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যৌথ বিবৃতি প্রকাশের আগে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে। এর আগে ওমান এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়া নির্ভর করছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমওইউ-এর শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
