গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি: সংকট কাটছে না, এলএনজির কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা

সহযোগীদের খবর

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি: সংকট কাটছে না, এলএনজির কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি: সংকট কাটছে না, এলএনজির কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আগস্টে চারটি কার্গো আসার কথা। কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত একটিও দেশে পৌঁছায়নি। কবে আসবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে আবার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিগগিরই সংকট কাটার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

এ পরিস্থিতিতে জরুরি দরপত্রের মাধ্যমে আরও পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দুটি কার্গোর জন্য দর পাওয়া গেলেও অন্য তিনটির জন্য কোনো কোম্পানি প্রস্তাব দেয়নি।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলো না আসায় সংকট আরও বেড়েছে।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, মাসে সাধারণত ১০টি কার্গো আমদানি করা হয়। টার্মিনালে ত্রুটি থাকায় আগস্টে নয়টি কার্গো আসার কথা। এর মধ্যে তিনটি দরপত্রের মাধ্যমে, একটি দীর্ঘমেয়াদি ও একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং চারটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা।

দরপত্রে কেনা তিনটি কার্গোর মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে গ্যাস সরবরাহ করেছে। অন্যটি ২০ আগস্ট আসার কথা। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকেও একটি কার্গো পাওয়া গেছে। সৌদি আরামকোর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় একটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছিল। তবে স্থানান্তরে ঝুঁকি থাকায় ওই কার্গো থেকে এলএনজি নিতে রাজি হয়নি টার্মিনাল।

সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা চার কার্গোর দুটি সরবরাহ করার কথা হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির। গত রোববার তারা একটি জাহাজের তথ্য পাঠায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাহাজটি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। এটি গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে অন্য জাহাজ ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের লেনদেনে জটিলতা দেখা দিতে পারে—এ আশঙ্কায় সরকার জাহাজটি নিতে রাজি হয়নি।

অন্য তিন কার্গোর সরবরাহের সময়ও এখনো নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। তারা সময় পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের অনুমতি চাইতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ক্রয়াদেশ পাওয়া সরবরাহকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি (ডকুমেন্টেশন) ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারেনি। তাদের জাহাজ না আসায় ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করে নতুন এলএনজি জাহাজ আনা হচ্ছে। সরবরাহ ধরে রাখা যাবে, কোনো সমস্যা হবে না।

কম দামের সরাসরি ক্রয়ে প্রশ্ন

আগস্টের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে দুই কার্গো, ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুই কার্গো এবং হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয় সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে।

এর মধ্যে ব্ল্যাককিউবের একটি কার্গো আগস্টে ও একটি সেপ্টেম্বরে, ম্যাক্সওয়েলের একটি আগস্টে ও একটি অক্টোবরে এবং ঝেনইউর দুটি কার্গো আগস্টে সরবরাহ করার কথা।

আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, এক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম ২০ ডলারের বেশি। গতকাল তা ছিল প্রায় ২২ ডলার। অথচ ব্ল্যাককিউব প্রতি ইউনিটের দাম দিয়েছে ১৫ দশমিক ৫০ ডলার ও ঝেনইউ ১৪ দশমিক ৯৫ ডলার।

এলএনজি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়ার পর কোম্পানি, কার্গোর উৎস ও প্রস্তাবিত জাহাজ সম্পর্কে আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা দরকার ছিল। এখন সরবরাহের সময় পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে বাজারদরের পরিবর্তনের কারণে সরবরাহকারী লাভবান হতে পারে। অথচ নির্ধারিত সময়ে সরবরাহে ব্যর্থ হলে চুক্তি অনুযায়ী তাদের জামানত থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার কথা।

আগে জ্বালানি তেলের সংকটের সময়ও সরাসরি ক্রয়াদেশ পাওয়া কয়েকটি কোম্পানি তেল সরবরাহ করতে পারেনি। এরপরও নিয়মিত সরবরাহকারীদের মধ্যে দরপত্র না ডেকে নতুন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি এলএনজি সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়।

জরুরি দরপত্রেও পাওয়া যাচ্ছে না সব কার্গো

সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা এলএনজির কার্গোগুলো অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় গতকাল জরুরি দরপত্র আহ্বান করা হয়। আগস্টে সরবরাহের জন্য তিনটি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের জন্য দুটি, মোট পাঁচ কার্গো কেনার প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ২৩-২৪ আগস্ট ও আগামী ৪-৫ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য দুই কার্গোর দর পাওয়া গেছে। দুটিতেই সর্বনিম্ন দরদাতা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম; দর প্রতি ইউনিট প্রায় ২২ ডলার। অন্য তিন কার্গোর জন্য কোনো কোম্পানি দর দেয়নি। সেগুলোর জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।

বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং খোলাবাজার—এই দুই উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশ থেকে নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তারা মাঝেমধ্যে এক বা দুই কার্গো পাঠাচ্ছে।

সৌদি আরামকোর সঙ্গে জিটুজি (সরকারি পর্যায়ে) ভিত্তিতে একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরপত্র ডেকে খোলাবাজার থেকে এলএনজি কেনা হয়। বর্তমান সরকার তালিকা হালনাগাদ করে ২৯টি কোম্পানির নাম চূড়ান্ত করেছে।

গ্যাসের সরবরাহ আবার কমছে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি এবং দেশি কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২৫ দিনের তীব্র সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ বাড়ে। তবে নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে দুই দিন ধরে সরবরাহ কমছে। নতুন জাহাজ না এলে এ টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গত শুক্রবার বিকেলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে দৈনিক ১৬৪ কোটি ঘনফুটে। শনিবার রাতে তা বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুট হয়। রোববার সরবরাহ কমে ২৪০ কোটি এবং গতকাল ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ৬৬ কোটি ঘনফুট।

শনিবারের পর গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি কারখানা রোববার উৎপাদনে ফিরতে শুরু করে। তবে সব এলাকায় পরিস্থিতি সমান নয়।

দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী এসিআই লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাসের সরবরাহ আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। এখন উৎপাদন মোটামুটি ঠিক আছে।

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, নরসিংদীতেও সরবরাহ বেড়েছে। যদিও গাজীপুরের কিছু এলাকায় সংকট রয়ে গেছে।

অন্যদিকে সাভারের লিটল স্টার স্পিনিং মিলসে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। লিটল স্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে আমাদের কারখানায় দিনে গ্যাসের চাপ থাকে ৫ পিএসআই, রাতে ১০ পিএসআই। কিন্তু গতকাল প্রয়োজনীয় চাপ পাওয়া যায়নি।’

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি কেনার উদ্দেশ্যই হলো দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা। সংকটের সময় সরবরাহ দিতে না পারলে সরাসরি কেনার কোনো অর্থ থাকে না। যারা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। জামানত বাজেয়াপ্ত করে তাদের কালোতালিকাভুক্ত করা উচিত। এখন দ্রুত দরপত্রের মাধ্যমে এলএনজির ব্যবস্থা করতে হবে। বেশি দাম হলেও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘দক্ষতার ঘাটতিতে পিছিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। যে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে-অনেক ক্ষেত্রে তার উপযোগী দক্ষ জনবলও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বিদেশের শ্রমবাজারে যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক স্বল্প দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী। ফলে বেশি কাজ করলেও উঁচুমানের বেতন পাওয়া যাচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয় কতটা কার্যকর-সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। দেশে বেকারদের ৭৬ শতাংশ তরুণ। আবার উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশকে চাকরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে মোট বেকার ২৬ লাখ ২৪ হাজার জন। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণ-তরুণী ২০ লাখ ৩২ হাজার জন। আবার বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। এ হিসাবে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার জন। প্রতি তিনজন স্নাতক ডিগ্রিধারীর একজন বেকার! শুধু বেকার নয়, চাকরি পাওয়ার অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৭ শতাংশের বেশি বেকার যুবককে এক থেকে তিন মাস বেকার থাকতে হয়। দুই বছরের বেশি কাজ খুঁজতে হয় ৮ শতাংশ বেকারকে। উচ্চশিক্ষিতদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও বেশি। চাকরিপ্রত্যাশী ১৭ শতাংশের বেশি স্নাতক দুই বছরের বেশি বেকার থাকেন। এক বছর থেকে দুই বছর বেকার থাকেন ১৫ শতাংশের বেশি উচ্চশিক্ষিত তরুণ। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় প্রতি তিনজনের একজনকে এক বছরের বেশি চাকরির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার তীব্রতাও বেড়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা বলছে, বিডিজবস ডটকমে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ চাকরিপ্রত্যাশীর প্রোফাইল রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লাখ চাকরিপ্রার্থী এ প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে নিজেদের পছন্দের চাকরি খোঁজেন। দুই বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ। অর্থাৎ এ সময়ে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি। প্ল্যাটফর্মটিতে সব সময় ছয় থেকে সাত হাজার নতুন চাকরির খোঁজ থাকে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে প্রায় ১০ হাজার নতুন চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। এরপরও একটি পদের বিপরীতে গড়ে ২৮৭ জনের বেশি চাকরিপ্রার্থী আবেদন করছেন। কোভিড মহামারির আগের পাঁচ বছরে এ ধরনের একটি পদের জন্য গড়ে ১৭৩ জন আবেদন করতেন। অর্থাৎ একই ধরনের চাকরিতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ।

বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক অতনু রব্বানী বলেন, শুধু ঋণ সুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা যথেষ্ট নয়। বর্তমানে বিদ্যমান পদের বিপরীতে নিয়োগ কম এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হারে বাড়ছে। ফলে বেকারত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা বেশি হচ্ছে এবং চাকরি পেতে অধিক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

দেশের পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারেও দক্ষতার ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। তাদের মাত্র ৪ শতাংশ পেশাজীবী এবং ২২ শতাংশ দক্ষ কর্মী। বাকি ৭৪ শতাংশ স্বল্প দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী। ২০২৪ সালে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে দক্ষ ছিলেন ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং পেশাজীবী ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ছিল যথাক্রমে ২৪ ও ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত পাঁচ বছরে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। এর প্রধান কারণ অদক্ষ শ্রমিক পাঠানো। ভারত, ফিলিপাইন ও নেপাল কম খরচে দক্ষ শ্রমিক পাঠাচ্ছে এবং আয়ও বেশি করছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিগত সরকারের সময়ে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু যুব বেকারত্ব মোকাবিলায় নেওয়া এসব প্রকল্পের বেশির ভাগই টেকসই কর্মসংস্থান বা আয়ের সুযোগ তৈরিতে সফল হয়নি।

কালের কণ্ঠ

‘রুফটপ সোলারে যাচ্ছে শিল্প’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলারের (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় কম খরচ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সংকট এবং ডিজেলচালিত জেনারেটরের উচ্চ ব্যয়ের কারণে রুফটপ সোলার এখন শিল্প খাতে আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে দিনে শিল্প-কারখানার বিদ্যুতের চাহিদার একটি বড় অংশ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিল্প-কারখানায় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৫৬ পয়সা। এর বিপরীতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ক্যাপেক্স মডেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়ছে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার টাকা। আর অপেক্স মডেলে প্রতি ইউনিটের খরচ সাত থেকে আট টাকার মধ্যে।

ফলে গ্রিড বিদ্যুতের তুলনায় ক্যাপেক্স মডেলে প্রতি ইউনিটে ৭ টাকারও বেশি এবং অপেক্স মডেলে প্রায় তিন থেকে সাড়ে চার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে গ্রিড বিদ্যুতের দাম আরো বাড়লে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের আর্থিক উপযোগিতা আরো বাড়বে। প্রচলিত বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে সাশ্রয়ের পরিমাণ বাড়বে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তির উন্নতি এবং সোলার প্যানেলের দাম কমে আসায় এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগও বাড়ছে।

তবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সাম্প্রতিক সময়ে করের বোঝা বেড়েছে। আগে ক্যাপিটাল মেশিনারির আওতায় মাত্র ১ শতাংশ কর দিয়ে এসব সরঞ্জাম আমদানি করা যেত। বর্তমানে এসব সরঞ্জামের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছে। এতে রুফটপ সোলার প্রকল্পের কার্যকর করের হার ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে। ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, করের এই বাড়তি বোঝা নতুন বিনিয়োগের গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে বর্তমানে ২৩৯টি শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রুপ অব কম্পানির ভবনও রয়েছে। এতে ৬৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে ক্ষুদ্রাকার স্থাপনাগুলো হিসাবে নিলে দেশে রুফটপ সোলারের মোট সক্ষমতা এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের মোট সক্ষমতা ১৮২৫.০৮ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্রিডভিত্তিক সক্ষমতা ১৪৪৬.৫২ মেগাওয়াট এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত নয় (অফ গ্রিড)—এমন বিদ্যুতের সক্ষমতা ৩৭৮.৫৬ মেগাওয়াট।

স্রেডার তথ্য বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ১৫৩১.৯৯ মেগাওয়াট, বায়ু থেকে ৬২ মেগাওয়াট, হাইড্রো বা পানির শক্তি ব্যবহার করে ২৩০ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাস থেকে ০.৬৯ মেগাওয়াট ও বায়োম্যাস থেকে ০.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহের সংকট ও গ্রিডের বিদ্যুতের উচ্চমূল্যের কারণে দেশের শিল্প খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রতি আগ্রহ ক্রমে বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে সাত টাকারও বেশি সাশ্রয় করতে পারছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করছে।’

তিনি বলেন, ‘শিল্পে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার পেছনে শুধু বিদ্যুত্ব্যয় কমানোই নয়, আরো কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের শর্ত বা চাহিদা রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্যও অনেক রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করছে।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘গ্যাসসংকটের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রও আগের মতো কার্যকরভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনের সময় ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরো বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় গ্রিডের বিদ্যুৎ এবং বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ অনেক বেশি সাশ্রয়ী।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় থাকা নিজস্ব ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। শিল্প-কারখানাগুলোকে এই সংকট থেকে রক্ষা করতে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি সহজলভ্য করতে হবে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ব্যাটারি সম্পূর্ণ করমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে শিল্প মালিকরা নিজেদের অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে দিন-রাত তা ব্যবহার করতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘শুধু করমুক্ত সুবিধা নয়, শিল্প মালিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পসুদের ঋণের ব্যবস্থাও করতে হবে। ২০ বছরমেয়াদি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপরীতে ১০ থেকে ১২ বছর মেয়াদে ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হলে শিল্পগুলো দ্রুত সৌরবিদ্যুতে যেতে পারবে।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকার ৪০৬ মাদক ব্যবসায়ীর অর্থ-সম্পদ অনুসন্ধান শুরু’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ৪০৬ জন মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে একযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানি লন্ডারিং ইউনিট।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য খুঁজে বের করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পৃথকভাবে চারটি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে সিআইডি। একসঙ্গে মাদক-সংশ্লিষ্ট এত সংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের ঘটনা এই প্রথম। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য পেতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে সিআইডি। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে চিঠি দিয়ে চাওয়া হয়েছে সম্পদের হিসাব। সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে লিখিত পত্র দিয়ে অভিযুক্তদের ব্যাপারে তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্তদের জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে।

সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন সমকালকে বলেন, অনেকের কাছে মাদক অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হওয়া যায়। অনেক কাজের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সমাজে অনেক অপরাধের মূল কারণ মাদক। কোনো পরিবারে একজন মাদকাসক্ত থাকলে তার ক্ষতি কী, তা ওই পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের অবৈধ অর্থ ও সম্পত্তির উৎস সন্ধান করা এবং এ-সংক্রান্ত অর্থ পাচারের তদন্ত করা সিআইডি শিডিউলভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ বিষয়ে আমরা খুব সিরিয়াস। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে নতুন যে আইন হয়েছে, তাতে আশা করি, আরও কার্যকর ও শক্তভাবে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

কয়েক যুগ ধরেই মাদক দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা। এটি অন্যতম জাতীয় সমস্যা হিসেবেও চিহ্নিত। সর্বশেষ ১৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নির্মূলে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একাধিক সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় মাদক সমস্যার ভয়াবহ চিত্রের তথ্য তুলে ধরে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

সিআইডি চারশর বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকের বিরুদ্ধে যে অনুসন্ধান শুরু করেছে, সেই তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এদের সবার নেটওয়ার্ক ঢাকাকেন্দ্রিক। সবার বিরুদ্ধে অন্তত চারটি মামলা আছে। কারও কারও বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ২০ থেকে ৪৭। এ তালিকায় নারী মাদক ব্যবসায়ীও রয়েছেন। সিআইডির চিঠির জবাবে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর ব্যাপারে ওসিদের পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য এখন যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে ভাটারার রাজু আহমেদের– ৪৭টি। এরপরই রয়েছে ভাসানটেকের মো. রূপচানের– ৪৩টি। এ ছাড়া শাহজাহানপুরের মো. সোহেলের বিরুদ্ধে মতিঝিল ও শাহজাহানপুর থানায় ২৭টি মামলা রয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে এসব মামলা হয়েছে। সোহেল বর্তমানে পলাতক। তিনি এলাকায় ‘কানা সোহেল’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানের বাসিন্দা মো. খালেদ মিয়ার বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে এসব মামলা হয়েছে। সর্বশেষ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এ বছরের ১১ মার্চ খিলগাঁও থানায়। এ ছাড়া খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৪টি। গত আট বছরে তাঁর বিরুদ্ধে এসব মামলা হয়েছে। সর্বশেষ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে গত ৯ জানুয়ারি।

ইত্তেফাক

গ্যাস-বিদ্যুতের ‘অতি সংকট পরিস্থিতি’ থেকে বের হচ্ছে দেশ-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরবরাহ বাড়ায় ‘অতি সংকট পরিস্থিতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাত। গত দুই সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে গ্যাসের ও বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি কমেছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং এখনো বেশি। বিশেষ করে রাজধানী ও বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুত্ থাকছে না। এর মধ্যে নতুন করে সৌদি আরামকোর একটি এলএনজি কার্গো গ্রহণ করতে না পারায় জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিবাগত রাত ১টায় ১৫ হাজার ২৭৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৪ হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ হয়। এ সময় লোডশেডিং হয় ৮০২ মেগাওয়াট । গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় ১৪ হাজার ৮১০ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট সরবরাহ হয়। সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ৮৯৩ মেগাওয়াট। গত দুই সপ্তাহে এ সময়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ২৪২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে গত সোমবার গ্যাস সরবরাহ কমেছে। সোমবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬১.৫ কোটি ঘনফুট স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রে উত্পাদিত এবং বাকি ৬০.৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি থেকে রূপান্তরিত। গত তিন দিনের মধ্যে গতকাল এলএনজি সরবরাহ কমায় মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে।

দেশে দৈনিক ৪১০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ৩১০-৩২০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলেও শিল্পসহ বিভিন্ন খাত মোটামুটি চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এর কম হলেই সংকট তীব্র হয়। গত সপ্তাহে এ সরবরাহ ২০০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে যায়। পরে শনিবারে তা ২৪৪ কোটি ঘনফুটে উঠে আসে। বর্তমানেও দেশে গ্যাস-সংকট রয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় ঘাটতি কিছুটা কমেছে। লোডশেডিংও কমেছে। তবে শিল্পে উত্পাদন এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়ানো যায়নি।

গ্যাস-সংকটই বিদ্যুতের বড় বাধা

বর্তমান বিদ্যুত্ সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে গ্যাসের ঘাটতি। দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনের বড় অংশ গ্যাসনির্ভর। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে প্রথম ধাক্কা পড়ে বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে। সামপ্রতিক সংকট আরো তীব্র হয় মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও কয়েক দিন আগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন আরো কমে যায়। এর প্রভাব রাজধানীতেও পড়ে এবং ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হয়। এর আগে ২১ জুলাই কারিগরি সমস্যার কারণে পেট্রোবাংলার এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস ধরে জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাত চাপের মধ্যে রয়েছে।

গ্রামে ভোগান্তি তেমন কমেনি

বিদ্যুতের ঘাটতির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে গ্রামীণ এলাকায়। রাজধানী ও বড় শহরে সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে জেলা ও পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। গত তিন দিন গ্রামে লোডশেডিং কিছুটা কম হওয়ার পেছনে দুইটি কারণ রয়েছে। এক-এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি, দুই-বৃষ্টির কারণে সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়া।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘পে-স্কেল চূড়ান্ত : দুই ধাপে বাস্তবায়ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ধরনের ভাতা দেয়া হবে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পরই নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো পর্যালোচনা ও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু পে-কমিশনের সুপারিশ নয়; এর সাথে আরো বেশ কিছু বিষয় যুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। গতকালের বৈঠকে প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোর বিষয়টিও নতুন পে-স্কেলের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী আরো জানান, পে-কমিশনের প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং আরো কিছু বিষয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

নবম পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যে কার্যকর হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দৃঢতার সাথে বলেন, “এ বছরের মধ্যেই হবে, অবশ্যই হবে। এ বছরের মধ্যেই হবে, সবই হবে।” অন্যদিকে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন, “একটু একটু।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর প্রভাব, মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ের আলোকেই পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সচিব কমিটির সুপারিশে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিব কমিটি পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আগে পে-কমিশন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করলেও বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সচিব কমিটি তা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ করার সুপারিশ করে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার কাছাকাছি করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এসব অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে।

বণিক বার্তা

‘সরকারের বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ৮ লাখ কোটি টাকার দায়’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বছরের পর বছর রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ ও ভর্তুকি দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে সরকার। কোনো কোনোটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে সরকারের সহায়তা ছাড়া সেগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

এসব প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে প্রতি বছর জনগণের করের অর্থ ব্যয় হলেও কার্যত কোনো রিটার্ন আসছে না। উল্টো প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দায় আরো বাড়ছে। অর্থ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশের ১২২টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মোট দায় ৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি দরকার হলে বেসরকারীকরণ এবং বন্ধ করে দেয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়াও জরুরি।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ঋণ, প্রচ্ছন্ন দায় ও আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণসংক্রান্ত অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ১২২টি প্রতিষ্ঠানের মোট দায়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত দায় ৪ লাখ ৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা, যা এসব প্রতিষ্ঠানের মোট দায়ের প্রায় ৪৯ শতাংশ। একই সঙ্গে ৪৯টি প্রতিষ্ঠান উচ্চ ও অতি উচ্চ ঝুঁকিতে আছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দায় মোট দায়ের প্রায় ৬২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, ঋণ ও দায়, মুনাফা, তারল্য, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা, প্রচ্ছন্ন দায়, সরকারি ভর্তুকি ও অনুদান এবং নিরীক্ষা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১২২টি প্রতিষ্ঠানের ১৯টি অতি উচ্চ ঝুঁকির, ৩০টি উচ্চ ঝুঁকির, ৫০টিকে মাঝারি ঝুঁকির, ১৮টি নিম্ন ঝুঁকির এবং পাঁচটি অতি নিম্ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ মোট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ শতাংশই উচ্চ ও অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

নির্দিষ্ট সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আ‌র্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ দায়ের তথ্য অর্থ বিভাগের এ প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তাছাড়া সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আ‌র্থিক প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তৈ‌রি করেনি। সর্বশেষ এ দুই অর্থবছরের দায়ের হিসাব যোগ করা হলে সে‌টি ৯ লাখ কো‌টি টাকা ছা‌ড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সং‌শ্লিষ্টরা।

অর্থ বিভাগের প্রতিবেদন অনুসারে, অতি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মোট দায় ২ লাখ ২২ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ছাতক সিমেন্ট, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ইস্টার্ন টিউবস, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল), টেলিটক বাংলাদেশ এবং একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল।

অতি উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দায় বিপিডিবির, ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এরপর জিটিসিএলের দায় ১৪ হাজার ১৩১ কোটি টাকা এবং ডেসকোর প্রায় ৬১ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অতি উচ্চ ঝুঁকির প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই নিট লোকসানে রয়েছে। জিটিসিএল ছাড়া এ শ্রেণীর প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগ একই সঙ্গে নিট আয়, পরিচালন আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহে ঘাটতির মুখে রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। যেমন ভর্তুকি, অনুদান, পুনঃমূলধনীকরণ, ঋণ পুনর্গঠন কিংবা প্রতিষ্ঠানের দায় সরকারকে গ্রহণ করতে হতে পারে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘তিন দশকে মশা মারার খরচ: ধোঁয়া ছড়াতেই ১৮০০ কোটি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু সারা দেশে ছড়ালেও এর সংক্রমণ বেশি রাজধানী ঢাকায়। সারা দেশে চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৭০ জনের মধ্যে ৩২ জনই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার। চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ব গবেষকেরা।

অথচ মশা মারতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের চার বছরে খরচ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। গত তিন দশকে এই খরচ মোট ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এই খরচ করা হয়েছে মশা নির্মূলে যন্ত্রপাতি, ওষুধ কেনা ও ছিটাতে। এরপরও মশার উপদ্রব কমছে না। কমেনি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের মশা মারার পদ্ধতি সঠিক নয়। বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে ভুল পদ্ধতিতে। মশা মারার ওষুধ কেনা নিয়ে দুর্নীতি ও মানহীন ওষুধ কেনার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি বিগত সময়ের কিছু উদ্যোগ সমালোচিতও হয়েছে।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ায় মশা নির্মূলে ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু কীটনাশক ছিটানো ও ওষুধ কেনার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিত এবং বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নিতে হবে। বছরের পর বছর একই ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মশার মধ্যে ওষুধপ্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু ওষুধ কেনার পরিবর্তে সিটি করপোরেশন মশা নিয়ে কাজ করার জন্য পুরো একটি আলাদা ইউনিট তৈরি করতে পারত। যেখানে পরিকল্পনাবিদ, বায়োলজিস্টও থাকবেন। সিটি করপোরেশন সনাতনি ওষুধনির্ভর পদ্ধতিতে থাকলে সামনে ভোগান্তি বাড়বে।

চার বছরে মশকনিধনে দুই সিটির ব্যয় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা

ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি মশা মারতে প্রতিবছরই বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দসহ চার অর্থবছরে মশক নির্মূল খাতে ঢাকার দুই সিটির ব্যয় ৫৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশা নির্মূলে ডিএনসিসি ব্যয় ধরেছে ১১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মশার ওষুধ কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। যন্ত্রপাতি, ফগার, হুইল স্প্রে মেশিন, পরিবহন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশক নির্মূলে ডিএনসিসির ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছর ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যথাক্রমে এই খাতে ব্যয় করেছে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৫০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চার অর্থবছরে মশার পেছনে ডিএনসিসির ব্যয় ৩৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশা মারতে ডিএসসিসি বরাদ্দ রেখেছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যয় করেছে ৩৩ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় প্রায় ২২ কোটি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মশক নির্মূলে কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি কেনা, পরিবহন ও ওষুধ ছিটানোতে খরচ করেছে ৪৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে চার অর্থবছরে মশার পেছনে ডিএসসিসির ব্যয় প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা।

দেশ রূপান্তর

‘পেনশন পেতে টেনশন’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর এবং কল্যাণ সুবিধার টাকা ছাড় কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ। একই দিনে সবার ব্যাংক হিসাবে টাকা যাওয়ার কথা থাকলেও অনেক শিক্ষক-কর্মচারী এখনো কোনো টাকা পাননি। আবার কারও হিসাবে অবসর সুবিধার টাকা গেলেও কল্যাণের টাকা যায়নি, কারও ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টোটা। তবে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের দাবি আবেদনকারীদের মধ্যে যাদের সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক রয়েছে, তাদের অনুকূলে প্রাপ্য সুবিধার একাংশ অর্থ পাঠানো হচ্ছে। ধীরে ধীরে সব টাকাই যাবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য যে অর্থ কেটে রাখা হয়েছিল, মূলত সেই অর্থই ছাড় করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অপেক্ষায় থাকা অনেক শিক্ষক-কর্মচারী প্রত্যাশিত পুরো অর্থ না পাওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা বিতরণ কার্যক্রম গত শনিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারেও অনেকের নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। মোবাইল ফোনে ব্যাংকের মেসেজ দেখে অনেকে টাকা প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত হন।

তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, একই সময়ে অর্থ ছাড়ের কথা জানানো হলেও সবার হিসাবে একসঙ্গে টাকা না যাওয়ায় অনেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিশেষ করে যারা কোনো অর্থই পাননি, তাদের মধ্যে প্রচণ্ড উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের অবসরপরবর্তী জীবনযাপন, চিকিৎসা, পারিবারিক ব্যয় কিংবা ঋণ পরিশোধের সঙ্গে এই অর্থ জড়িত থাকায় টাকা ছাড়ে ধীরগতির কারণে আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। আবার যাদের হিসাবে আংশিক অর্থ জমা হয়েছে, তারাও বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন না। কেউ শুধু অবসর সুবিধার টাকা পেয়েছেন, আবার কেউ শুধু কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেয়েছেন। অবশিষ্ট টাকা কবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে ঘোরপাক খাচ্ছে প্রশ্ন।

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে গতকাল সোমবার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। নারায়ণগঞ্জ আদর্শ কলেজের এক শিক্ষক জানান, সরকারের ঘোষণা শুনে তিনিও অবসর ও কল্যাণের টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে শনিবার সারা দিনেও তার ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা আসেনি। সুনামগঞ্জের মাদ্রাসা শিক্ষক আসলাম আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার জানিয়েছিল অবসর ও কল্যাণের টাকা দেওয়া হবে। অথচ আমার অ্যাকাউন্টে কেবল একটির টাকা এসেছে। বাকি টাকার বিষয়ে জানতে এখানে এসেছি।’

অবসর ও কল্যাণ বোর্ডের তথ্যকেন্দ্রের সামনে গতকাল দিনভর অনেক শিক্ষককে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসার কথা জানান। কারও অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই আসেনি, কারও অবসর কিংবা কল্যাণের টাকা এসেছে। বিভ্রান্তিকর এ অবস্থার কারণ জানতে শিক্ষকদের অনেকে ঢাকায় এসেছেন।

তথ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, রবি ও সোমবার অনেক শিক্ষক-কর্মচারী তথ্যকেন্দ্রে ভিড় জমান। এই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে কর্মকর্তারা বলেন, টাকা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আবেদনকারীদের কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই শেষে যাদের কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যাবে, পর্যায়ক্রমে তাদের টাকা পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘মেগা প্রকল্পের ভারী বোঝা’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বর্তমান সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে পতিত সরকারের অসমাপ্ত মেগা প্রকল্পগুলো। অতিমূল্যায়িত হওয়ায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর দু-একটির ডিপিপি সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী লীগ আমলে নির্মিত পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল যোগাযোগ খাতে কিছুটা স্বস্তি দিলেও লোকসান গুনছে কর্ণফুলী টানেল। এ ছাড়া বারবার সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় ঘটানো হয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে। যার একাংশ খুলে দেওয়া হলেও বড় অংশের কাজ এখনো চলমান। এদিকে কাজ শেষ হওয়ার আগেই উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় এটি তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে এর কাজ শেষ হয়নি। ফলে এর সুফল পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে আজও। অন্যদিকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের আরেক মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ। যে লাইন দিয়ে দৈনিক ২৪টি ট্রেন চলার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে চলছে মাত্র আটটি। ফলে এ প্রকল্পের আর্থিক সুফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। এর বাইরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামোর আরও একাধিক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। যেখানে এক টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে পাঁচ টাকা পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে। সূত্রমতে এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। সামগ্রিকভাবে এসব মেগা প্রকল্প বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। কেননা সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, দুঃশাসনের জঞ্জাল কাটিয়ে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আটটি প্রকল্পকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ‘ফাস্ট ট্র্যাক মেগা প্রজেক্ট’ হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সেগুলো হলো পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন। পরে ২০১৭ সালের সরকারি নথিতে আবার ১৩টি রূপান্তরমূলক মেগা প্রকল্পের কথা বলা হয়। সেখানে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মা রেলসংযোগ, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ, রূপপুর, রামপাল, মাতারবাড়ী, ভোলা গ্যাস পাইপলাইন, এলএনজি টার্মিনাল, মাতারবাড়ী কয়লা টার্মিনাল, উপকূলীয় পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ছিল।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অতিমূল্যায়িত প্রকল্প মানেই সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি। বিগত সরকারের নেওয়া এসব প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়াই আমাদের জন্য এক ধরনের চাপ। কেননা আর্থিক খাতের ভঙ্গুর পরিস্থিতি তো রাতারাতি ঠিক করা সম্ভব নয়।’ সিপিডি গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আগের সরকারের সময়ে অনেক মেগা প্রকল্পই অতিমূল্যায়িত ছিল। শুধু তাই নয়, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও ছিল। আবার কিছু কিছু প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক সুফল নিয়ে প্রশ্ন ছিল।’

রেলসংযোগ প্রকল্প অতিমূল্যায়নের ফলে প্রশ্নবিদ্ধ পদ্মা সেতুর সুফল : ২০২২ সালের জুনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। যার প্রকৃত ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে সড়ক ও রেল দুই পথেই সেতুটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ গত দুই-তিন বছরে এ প্রকল্পে নির্মাণ অগ্রগতির পরিবর্তে মূল অর্জন হয়েছে ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সংযুক্তির ক্ষেত্রে। এদিকে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে, যা পদ্মা সেতুর সহযোগী প্রকল্প। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া, মাওয়া-ভাঙ্গা, ভাঙ্গা-যশোর-এ তিন অংশ রয়েছে। প্রকল্পটি অবকাঠামোগতভাবে শেষ হলেও এর পূর্ণ সক্ষমতা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রকল্প পরিকল্পনায় দৈনিক ২৪টি ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা থাকলেও জনবল, লোকোমোটিভ ও কোচের ঘাটতির কারণে শুরুতে মাত্র আটটি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের বিপরীতে চীনা ঋণের দায় রয়েছে। ফলে শুধু রেললাইন নির্মাণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়; পর্যাপ্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করে প্রকল্পের আয় বাড়ানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বর্তমানে যে সক্ষমতা রয়েছে, তার তুলনায় কম ট্রেন চলাচল করলে প্রকল্পের অর্থনৈতিক রিটার্ন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হতে পাওে; যা ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।