পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে সোমবার ভোরে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ছাড়াও দুই নারী এবং পাঁচজন পুরুষ রয়েছেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত ও আহতরা প্রায় সকলেই পুণ্যার্থী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তারাপীঠ মন্দিরে বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারের পুজো দিতে গিয়েছিলেন তারা।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মন্দির শহর তারাপীঠের একটি চারতলা হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। বেশির ভাগ অতিথি তখন হোটেলের বিভিন্ন ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুন বেরোতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। শুরু হয় আগুন নেভানোর পাশাপাশি হোটেলের ভেতরে আটকে পড়া আবাসিকদের উদ্ধারের কাজ। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা। এরপর হোটেলের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে দগ্ধ অবস্থায় ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতরভাবে দগ্ধ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হোটেল থেকে মোট ২৮ জনকে সুস্থ অবস্থায় নিরাপদে বের করা সম্ভব হয়েছে। দমকল বিভাগের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই হোটেলের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গেছে, আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। তাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। হোটেলের সবচেয়ে উপরের তলায় ছিল ওই পরিবার। আগুন লেগেছে জানতে পেরে শিশুদের নিয়ে সকলে একসঙ্গে নিচে নামতেই আগুনের মুখে পড়েন। তাদের কাউকে বাঁচানো যায়নি। মৃতদের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ও আলিপুরদুয়ারের তিনজন রয়েছেন। আগুনের খবর জানার পরেই নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা তারাপীঠ ও রামপুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। অনেকেই হাসপাতালে এসে স্বজনদের খোঁজ করছেন।
