কুড়িগ্রাম সদরের ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপচর ‘ঝুনকার চর’। এই চরের শিক্ষার একমাত্র আলো ‘খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে স্কুলটির পাঠদান প্রায় বন্ধ। বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষক না আসা ও ঠিকমতো পাঠদান না হওয়ার অভিযোগে আন্দোলনে নেমেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (২য় সাময়িকী) পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। পরীক্ষার আগের দিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে শুরু করে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি। বেলা গড়িয়ে দুপুর হলে বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ দেখে ক্ষুব্ধ ও ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষের দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করে অবুঝ শিশুরা এবং চিৎকার করে প্রতিবাদ জানায়। নদীবেষ্টিত চরের বুকে শিশুদের এমন বিক্ষোভ দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তালাবদ্ধ থাকায় সরকার নির্ধারিত ‘মিড ডে মিল’ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ থেকেও বঞ্চিত হয় শিশুরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো পাঠদান হচ্ছে না। এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন অবহেলা খুবই দুঃখজনক। কিছু শিক্ষকের কতিপয় কর্মকাণ্ডে সরকার এবং দল চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চরের শিশুদের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছি। একই সঙ্গে সকল স্কুলে নজরদারি বাড়ানোর জন্য শিক্ষা বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অভিযোগের বিষয়ে খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইশরাত জাহানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, সোমবার কোনো শিক্ষক স্কুলে উপস্থিত ছিলেন নাÑ এটি সত্য। দায়িত্ব অবহেলার কারণে সব শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় জানান, ঘটনা জানার পরপরই অভিযুক্ত সব শিক্ষককে শোকজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
