র‌্যাব-এর বদলে এসআরবি, আইনের খসড়া অনুমোদন

র‌্যাব-এর বদলে এসআরবি, আইনের খসড়া অনুমোদন

ফন্ট সাইজ:

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে বিদ্যমান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বাদ দিয়ে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসআরবি আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয় বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো: (ক) বিদ্যমান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে; (খ) নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে; (গ) র‌্যাব-সংক্রান্ত জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবি-এর নিকট স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে; পাশাপাশি, নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জঅই-সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাব করা হয়। বৈঠকে গত ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশ দলের এ সাফল্য কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার একটি উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এ ঐতিহাসিক সাফল্য দেশের তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মন্ত্রিসভা আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। বৈঠকসমূহে গৃহীত ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৮০টি (৭৪ শতাংশ) এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ২৮টি (২৬ শতাংশ)। মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ১৭ ফেব্রুয়ারি হতে ৩১ জুলাই মেয়াদে ৪৩টি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মেয়াদে ৭টি নীতি/কর্মকৌশল/কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রতিবেদনাধীন মেয়াদে ৩টি আন্তর্জাতিক চুক্তি/প্রটোকলের খসড়া স্বাক্ষর বা অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১টি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ২টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১০৪টি আইন পাস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে বলা হয়- সীসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী (শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিক)-এর সুরক্ষা এবং সীসা দূষণ/বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ একান্ত জরুরি। সীসা (Lead) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সীসা বিষক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি যেমন: স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি, হাড় ও দাঁতের সমস্যা, পাচনতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর অধীনে পরিচালিত Multiple Indicator Cluster Survey (MICS) ২০২৫ জরিপে দেখা গেছে, ১২ হতে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮.৩৪% এবং গর্ভবতী নারীদের প্রায় ৭.৫৪%-এর রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সীসা রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন জেলায় সীসা বিষক্রিয়ার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা জেলায় ৬৫.২% শিশুরা সীসা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া, ICDDR,ই-এর সম্প্রতি গবেষণায় ঢাকার ২ হতে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর মধ্যে ৯৮% শিশুর ক্ষেত্রে রক্তে সীসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও সবুজ প্রবৃদ্ধি (Green Growth) নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সীসার উপস্থিতি সনাক্তকরণ, সীসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘National Strategy and Multi-Year Action Plan for a Lead-Free Bangladesh (২০২৬-২০৩৫)’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ কৌশলপত্রে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সীসার উপস্থিতি সনাক্তকরণ, সীসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানের লক্ষ্যে Institutional Capacity Building, Surveillance and Identification, Policy and Regulation, Monitoring and Enforcement, Private Sector Engagement, Awareness, Behavior Change and Education, Research and Innovation, Multisectoral Engagement, Coordination and Collaboration-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, সংস্থা ও অংশীজনদের দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের ৫০ শতাংশ শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা হ্রাস এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের ৯৫% শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে (ভিত্তিমান: গওঈঝ ২০২৫ জরিপে অনুসারে ৩৮.৩৪ শতাংশ)।