সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে আট মাসে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য, মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ চারটি সেক্টর। এই চারটি সেক্টর হলো- সিলেট সেক্টর, শ্রীমঙ্গল সেক্টর, কুমিল্লা সেক্টর, ময়মনসিংহ সেক্টর।
গতকাল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, রিজিয়ন সদর দপ্তর, সরাইলের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ৪৬ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। বিজিবি সূত্র জানায়, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তে ৪০টি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের মোট ২২১টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) দায়িত্ব পালন করছে। এসব বিওপি’র মাধ্যমে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিজিবি’র দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ১০ই আগস্ট পর্যন্ত নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে সীমান্তপথে মাদক ও বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি’র তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধেও নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বিজিবি। বিভিন্ন সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান, একটি ওয়ান শুটারগান, ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে বিজিবি। এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায়ও বিজিবি নজরদারি বাড়িয়েছে। বিজিবি’র সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর অভিযানে এ সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে উত্তোলন করা ২ হাজার ১২১ ঘনফুট বালু এবং ৭ হাজার ৪৬৫ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। ৪৬ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি অঙ্গীকারবদ্ধ।
