দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আর নেতা-কর্মীরা পালিয়ে বেড়ালেও সবাইকে অবাক করে ফেনীতে আওয়ামী লীগের এক নেতা জেলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। তাও আবার সভাপতি, সম্পাদকের মতো পদও ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড়ের পাশাপাশি ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষোদ প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাতেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। আর প্রশাসনে আওয়ামী সিন্ডেকেটের পাশাপাশি শর্ষের মধ্যে ভূত দেখছেন বিএনপি নেতারা।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলী কমিটির সদস্য, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আবদুল মোতালেব। তিনি ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের ৫১ নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য। মূলত তাকে নিয়েই ফেনী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আলোচনা সমালোচনার সঙ্গে ক্ষোভে ফুঁসছে বিএনপিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। সবার প্রশ্ন দৃশ্যপট পরিবর্তনের পরও কীভাবে মোতালেব এ সব গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেলেন। অথচ পলাতক আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসি দেয়ার পর ফেনী থেকে বাসে করে আবদুল মোতালেবের নেতৃত্বে রাউজানে গিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এছাড়া ছাত্র-জনতার কোটাবিরোধী ও একদফা আন্দোলনের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মোতালেব সবসময় মাঠে অবস্থান করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিনের সুপারিশে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেয়েছেন। তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংসদ সদস্য। জনরোষ থেকে নিজেকে রক্ষা করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারেন, এমনটাই মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক গণমাধ্যমকর্মী মনে করেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ছত্রছায়ায় নিজ দলের লোকদের দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। আওয়ামী লীগের এক নেতার এত পদ নিয়ে ফেনী পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, এতেই প্রমাণ হয় এখনও শর্ষের ভিতর ভূত। অর্থাৎ প্রশাসনে ফ্যাসিস্টের বিচরণ দৃশ্যমান। মোতালেব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোটা বিরোধী ও জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধাচারণ করে মাঠে আন্দোলনে ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি’র এ নেতা। এদিকে ক্ষোভ উত্তেজনা ও প্রতিবাদের মুখে জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, বিভিন্ন কমিটি পুঃনগঠন করা হবে। আওয়ামী লীগের কোনো লোক এসব কমিটিতে স্থান পাবেনা বলে গণমাধ্যমে জানান ডিসি।
