গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের আরপিসিএলের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গত ২৬ দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অচল থাকায় এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্য দু’টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এতে বিভাগ জুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।
আরপিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে শম্ভুগঞ্জে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর অঞ্চলটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)। আর এই প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহের জন্য যে পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করেছে সঞ্চালন সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বর্তমানে শূন্যে নেমে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এলাকাটি শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরিত হবেÑ এমন লক্ষ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার প্রাক্কলনও ছিল। কিন্তু কেন্দ্রটি বছরের পর বছর গ্যাস সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের পর কেন্দ্রটিতে গ্যাসের সরবরাহ কমতে থাকে। আরপিসিএলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে ৩০-৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না। গ্যাস সংকটের কারণে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাজুক পরিস্থিতিও ওঠে এসেছে আরপিসিএলের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত উৎপাদন চিত্রে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরপিসিএলের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মাসভিত্তিক উৎপাদন কোনো কোনো মাসে ৪০ মেগাওয়াটের নিচেও নেমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ। তার আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৬৫-৭০ শতাংশের মধ্যে। অর্থাৎ গ্যাস সংকটের কারণে অব্যাহতভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদন হ্রাস পায়। এভাবে এতদিন চলছিল। কিন্তু এর মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে গত ২৬ দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ আরপিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে আছে।
