বান্দরবানে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কর্তন, দায় এড়াচ্ছে গণপূর্ত

বান্দরবানে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কর্তন, দায় এড়াচ্ছে গণপূর্ত

ফন্ট সাইজ:

বান্দরবানে সরকারি নিয়ম ও অনুমোদন না মেনেই গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন প্রাঙ্গণ থেকে পুরনো ও বড় বড় গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা দপ্তরের নিজস্ব প্রাঙ্গণেই অনুমোদনহীনভাবে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন এলাকা থেকে ঝাউ, কাঁঠাল, আম, মেহগনি, অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কয়েকটি পুরনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ হিসেবে থাকা এসব গাছ কাটার আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, তালিকা ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গাছগুলো কাটা হয়। পরে শুক্রবার কেটে ফেলা গাছের গুঁড়ি ও কাঠ বান্দরবান জেলা শহরের উজানীপাড়া এলাকার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, গাছ কাটার বিষয়ে দায় এড়িয়ে গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় বলেন, গাছ কাটার জন্য আমরা কাউকে বলিনি। কে বা কারা গাছ কেটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্নÑ গণপূর্ত বিভাগের নিজস্ব কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন প্রাঙ্গণ থেকে একাধিক বড় গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জানলেন না কীভাবে?

তাদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ থেকে যদি সত্যিই অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা হয়ে থাকে, তাহলে এটি সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। গাছ কাটার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে শুধু বিভাগীয় তদন্ত নয়, প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়রা আরও বলেন, সরকারি স্থাপনার গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমোদনপত্র, গাছের তালিকা, পরিমাপ এবং কাঠের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।