প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরদিনই সুখবর পেলেন পাকুন্দিয়াবাসী

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরদিনই সুখবর পেলেন পাকুন্দিয়াবাসী

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জে এক দীর্ঘ সফর করে রাতে ঢাকায় ফিরেন। রাত পোহানোর পর সোমবার সকালেই তিনি সুখবর দিয়েছেন পাকুন্দিয়াবাসীকে। পাকুন্দিয়া উপজেলার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দু’টি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে পত্র দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে পাকুন্দিয়া উপজেলার মুনিয়ারীকান্দা থেকে দত্তের বাজার এবং মির্জাপুর হতে টাংগাবর পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পত্রে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ই আগস্ট (রোববার) সরকারি সফরে কিশোরগঞ্জ জেলা সফর করেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি জনসভায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর মুনিয়ারীকান্দা হতে দত্তের বাজার এবং মির্জাপুর হতে টাংগাবর পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণের সানুগ্রহ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। এমতাবস্থায় উক্ত দুই স্থানের সম্ভাব্যতা যাচাই করে ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পাকুন্দিয়ায় খুশির জোয়ার বইছে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন বলেন, সফর শেষ করে রাত পোহাতে না পোহাতেই প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি উনার যে দরদ এবং কল্যাণমুখী চিন্তা- সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রোববার দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ জেলা সফরের শুরুতেই সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে অনুষ্ঠিত জনসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন তার বক্তব্যে পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য শেষে তিনি মঞ্চ থেকে নিচে নেমে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারো মঞ্চে উঠে মাইক হাতে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় উপস্থিত হাজারো মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই করতালি ও সেøাগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।