প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় এখনো গড়ে ওঠেনি নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন।
ফলে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে উপজেলার বিভিন্নস্থানে ভাড়া করা বাসা ও পুরনো ভবনে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে সরকারি ব্যয়, অন্যদিকে বিভিন্ন দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জানা যায়, ২০১৭ সালের ২০শে নভেম্বর উপজেলাকে প্রশাসনিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৪শে জুন শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও একজন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম চালু হলেও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ না হওয়ায় অধিকাংশ দপ্তর এখনো ভাড়া করা বাসা ও দোকানঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেবা নিতে আসা মানুষজন বলছেন, একাধিক দপ্তরের কাজ একদিনে শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়চর মৌজায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ২৫টি দাগে প্রায় ছয় একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই জমিতে মাটি ভরাট ও সয়েল টেস্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো মূল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইরাজ উদ্দিন দেওয়ান জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলা ভবনের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরনো ডিজাইনের চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী চৌধুরী বলেন, ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি প্রবাসীর বাসা ভাড়া নেয়া হয়। সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান, দুই ভাইস চেয়ারম্যানের দপ্তরের পাশাপাশি একাধিক সরকারি অফিস পরিচালিত হচ্ছে। এ জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য দপ্তরের ভাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বহন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘চারতলা উপজেলা ভবনের নকশা অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
