নাতনি স্কুল থেকে ফেরেনি, বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে এক সহপাঠীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর। ঘরে বসে সে খবর শোনামাত্রই বুক কেঁপে উঠেছিল দাদি খাইরুন নেছার (৯০)। নাতনি হারানোর ভুল খবরে ক্ষণিকের মধ্যে থামলো তার হৃদস্পন্দন। কিছু সময় পর হারিয়ে যাওয়া নাতনি অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেও, তাকে কোলে জড়িয়ে নেয়ার জন্য বেঁচে রইলেন না দাদি। গত রোববার সন্ধ্যায় ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর গ্রামে সুতা ব্যাপারির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খাইরুন ওই বাড়ির বদিউর রহমানের স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকালে সিলোনীয়া বাজারে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার সুরাইয়ার (১২) মৃত্যু হয়। নিহতের নাতনি জান্নাতুল ফাহিমও ওই একই স্কুলের ছাত্রী। নাতনির নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানালে পরিবার জুড়ে নাতনির মৃত্যুর ভুল খবর ছড়িয়ে পড়ে। নাতনিকে হারানোর খবর শুনে দাদি আকস্মিক অচেতন হয়ে ঘরে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে নাতনিকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেয়ে স্বজনরা তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই শুনতে পান দাদির অসুস্থতার সংবাদ। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অশ্রুসজল চোখে স্বপন মিয়া বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে আমি সংসার চালাই। দুর্ঘটনায় এক ছাত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সিলোনীয়া বাজারে যাই, কিন্তু নিজের মেয়েকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কান্নাকাটি করে বাড়িতে স্ত্রীকে এ কথা জানালে ঘরে থাকা আমার মা, নাতনির শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পেলেও মাকে হারিয়ে ফেললাম। দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ইফরাদ খন্দকার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই খাইরুন নেছার মৃত্যু হয়েছে। তীব্র মানসিক আঘাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একদিকে নাতনির অলৌকিক বেঁচে ফেরার স্বস্তি, অন্যদিকে দাদির মর্মান্তিক বিয়োগ- দু’টি পরস্পরবিরোধী অনুভূতিতে পুরো আলামপুর গ্রামে এখন শোকের ছায়া।
