দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডে (এমজিএমসিএল) পাথর উত্তোলন স্বাভাবিক থাকলেও বিক্রি কমে যাওয়ায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। খনির ইয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি পাথর মজুত থাকায় উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খনি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইয়ার্ডে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টন পাথর মজুত রয়েছে, যা প্রায় ধারণক্ষমতার সমান। নিয়মিত উত্তোলনের ফলে মজুত আরও বাড়ছে। কিন্তু বড় প্রকল্পে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং নতুন ক্রয়াদেশ না থাকায় আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। ফলে ইয়ার্ড প্রায় পূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন করে পাথর রাখার জায়গা না থাকলে সাময়িকভাবে উত্তোলন বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
খনির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, উত্তোলন বন্ধ হলে যন্ত্রপাতি ও জনবল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ধারাবাহিক উৎপাদন ব্যাহত হলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়বে। জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) উৎপাদন ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই খনিটি লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তবে বাজারে পাথরের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি বড় প্রকল্পে ক্রয় প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে বিক্রি কমেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে মধ্যপাড়ার পাথরের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ সংকট কাটানো সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে। এ জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও দ্রুত ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন। খনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উত্তোলন বন্ধ হলে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। এতে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে। দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হলে খনির আর্থিক সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, খনিতে প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীর পাশাপাশি পরিবহন, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও বিভিন্ন সেবায় যুক্ত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। উত্তোলন বন্ধ হলে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় এক শ্রমিক নেতা বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত বিকল্প বাজার খুঁজে বের করা হোক। খনি বন্ধ হলে শুধু শ্রমিক নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ খনিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি. এম. জোবায়েদ হোসেন বলেন, সরকারি প্রকল্পে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধানের আশায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে বাজার সম্প্রসারণ, আগাম বিপণন পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। অন্যথায় উৎপাদন থাকলেও বিক্রি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
