বানিয়াচংয়ে চেয়ারম্যান-প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে ওসিসহ আহত শতাধিক

বানিয়াচংয়ে চেয়ারম্যান-প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে ওসিসহ আহত শতাধিক

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন নিয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বনাম প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ওসিসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত টেঁটাবিদ্ধ মুকিত, রকিব, আঙ্গুরসহ অন্তত ১০ জনকে সিলেট প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন কৃষি প্রণোদনার চাল ও টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদে ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষদের মধ্যে অনুদানের টাকা ও চাল বিতরণ করছিলেন। এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এসে ফরিদ আহমেদকে বৈধ চেয়ারম্যান নয় বলে জানান। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্কবিতর্কের জেরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল এবং ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ফরিদ আহমেদ ও কফিল উদ্দিনের পক্ষের অন্তত শতাধিত লোক আহত হয়েছেন। তন্মধ্যে ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতরা হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জসহ স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদে জানান, হাইকোর্ট আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আদেশ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী স্বাক্ষরিত এক পত্রে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লিখিতভাবে আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান আমার সব কাগজপত্র ভুয়া বলে আমাকে দায়িত্ব পালনে তার দলবল নিয়ে বাধা প্রদান করে এবং আমার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন তার ওপর ফরিদ আহমেদের উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ফরিদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় আমি অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার এবং পরিষদের কোনো সদস্যের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই হঠাৎ করে ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদে চলে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইউএনও কর্তৃক দায়িত্ব হস্তান্তরের কোনো চিঠি পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান কফিল উদ্দিন।

এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ টহল অব্যাহত আছে। কৃষি প্রণোদনার টাকা ও চাল লুটপাটের ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথীর বক্তব্য জানতে সরকারি মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিনিধি হিসেবে আমার কার্যালয়ের পরিদর্শক মিহির চন্দ্র পুরকায়স্থ সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় ইউনিয়ন অফিসে দু’পক্ষের মারমুখী অবস্থা দেখে আত্মরক্ষার্থে তিনি সেখানে থেকে চলে আসেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন