বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে টেক্সটাইল মূল্য শৃঙ্খলে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ শিল্পায়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি সই হয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং নেদারল্যান্ডসের অর্থনৈতিক বিষয়ক ও জলবায়ু নীতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার অর্থনীতি এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের মতো খাতে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সমঝোতা স্মারক আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সার্কুলার অর্থনীতি শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) গণ্ডি পেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নেদারল্যান্ডসের ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথবিষয়ক মন্ত্রী স্টিয়েন্তে ভ্যান ভেল্ডহোভেন বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন স্টিয়েন্তে ভ্যান ভেল্ডহোভেন। দুই দেশের মন্ত্রীরা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন, পুনর্ব্যবহারভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং টেকসই শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল শিল্পখাত গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
