চিকিৎসার আশ্বাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ নারীসহ গ্রেপ্তার ২

ফন্ট সাইজ:

চিকিৎসা করিয়ে দেয়ার আশ্বাসে খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে এক গৃহবধূ (৪০)কে সাতক্ষীরার তালায় এনে চেতনানাশক মিশ্রিত খাবার খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নারীসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- শিপ্রা ও অনুপ। তবে মামলায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি গ্রামের অসুস্থ ওই গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে সাতক্ষীরা সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়ার কথা বলা হয়। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরায় গিয়ে চিকিৎসক পাওয়া যাবে না- এমন কথা বলে তাকে কৌশলে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, রাজু নামে এক যুবক ওই গৃহবধূকে বাসাটিতে নিয়ে যান। তিনি সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করেন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর সহযোগিতায় গৃহবধূর খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো হয়। খাবার খেয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাজু তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ বিষয়টি বুঝতে পেরে বাসায় থাকা ওই নারীকে জানান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওই নারী তাকে গালিগালাজ করেন এবং মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখান। এরপর রাতে দফায় দফায় রাজুসহ আরও এক যুবক তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন শুক্রবার সকালে ওই গৃহবধূ কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে তালা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক জানান, শুক্রবার প্রাথমিক তদন্ত শেষে অচেতন করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক ও এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়। ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপ্রা ও অনুপকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।