শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হুমকি ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইব্নে সিনা ভবন, প্রশাসন ভবন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন, টিএসসিসি ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এসব ঘটনা ঘটেছে। ১৫ই আগস্ট উপলক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আসাদ তৌফিক, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ, আলীনূর রহমান, আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ ২৫-৩০ জন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান সাবেক প্রক্টর এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সচিব ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য, নিয়োগ-সংক্রান্ত অডিও ফাঁস, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির অপব্যবহার, মেগা প্রকল্পে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এইচআরএম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি অফিসে বসেছিলাম। এ সময় কিছু ছেলেপেলে এসে আমাকে বলছে- আপনি গতকাল শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন, কালকে থেকে আর ক্লাসে আসবেন না। এ সময় তারা আমাকে গালিগালাজ করে এবং হুমকি-ধমকি দেয় এবং চলে যাওয়ার সময় আমার ছাত্রদেরকে মারধর করে।
ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা আমার রুমে এসেছিল, আমার গায়ে হাত তোলেনি। এমনকি আমি কোনো হেনস্তারও শিকার হইনি। এটা সত্য যে, তারা আমার রুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি পেয়েছে। যেহেতু প্রক্টর এই বিভাগের, তাই এসব বিষয়ে সেই ভালো জানে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য শাহরিয়ার রশিদ নিলয় বলেন, ফ্যাসিস্টদের ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই, আমরা কোনো হামলা করিনি। ১৫ই আগস্টকে উদ্দেশ্য করে তারা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছে এবং তারা ক্যাম্পাসকে ঠিক থাকতে দিতে চায় না। তাই তাদেরকে বলে এসেছি যে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম তারা ক্যাম্পাসে যেন না করে।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ?মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, কারও গায়ে হাত তোলা হয়নি, কোনো ভাঙচুরও করা হয়নি। মাহবুবের রুমে শেখ মুজিবের ছবি ছিল, সেটা সরানো হয়েছে। নিষিদ্ধ লীগের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। যারা খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাজে কথা বলবে তাদেরকে আমরা ছেড়ে দিয়ে কথা বলতে পারি না।
