আত্মবিশ্বাসের গল্প শোনালেন মিরাজ

আত্মবিশ্বাসের গল্প শোনালেন মিরাজ

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ডারউইনে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্বাগতিকদের বিপক্ষে এই অবিশ্বাস্য টেস্ট জয়ের পর অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ জানালেন ঐতিহাসিক এই জয়ের পেছনের গল্প। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও অ্যালিসা হিলির মুখোমুখি হয়ে মিরাজ তুলে ধরেন দলের অদম্য আত্মবিশ্বাস ও লড়াইয়ের মানসিকতা। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। তবে সেই ব্যর্থতাই হয়ে ওঠে ঘুরে দাঁড়ানোর জ্বালানি। মিরাজ বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ হারের পর ভাবতে হয়েছে কীভাবে কী করা যায়।

আমাদের সবার জন্য দারুণ একটা সুযোগ ছিল। বার্তা একটাই ছিল- আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, না হলে বেশি দূর যেতে পারবো না।’ এই শতাব্দীর এশিয়ার দ্বিতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের পথে ব্যাট ও বল হাতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে বিপর্যয়ের মুখে টেলএন্ডারদের নিয়ে দারুণ এক জুটিতে মূল্যবান ৬৫ রান করেন তিনি। আর দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন ৫ উইকেট। ২০১৯ সালে ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে ফাইফার নেন এ টাইগার ক্রিকেটার। নিজের কৃতিত্ব সতীর্থদের উৎসর্গ করে মিরাজ আরও বলেন, ‘শেষের ব্যাটসম্যানরা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছে। আমি শুধু তাদের বলেছিলাম টিকে থাকতে এবং বোলার কে তা না ভেবে শুধু বলের মেধা অনুযায়ী খেলতে।’

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চমৎকার ক্রিকেট খেলেছি। সঠিক সময়ে ভালো ব্যাটিং ও বোলিং করেছি। তানজিদ তামিম, শান্ত ও মুমিনুল খুব ভালো ব্যাট করেছে।’ এই অবিস্মরণীয় জয়ে দেশের মানুষের উচ্ছ্বাসে ভাসছেন মিরাজ ও তার সতীর্থরা। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশি সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের সবাই খুব খুশি। এটা খুব গর্বের একটা মুহূর্ত। অনেক বাংলাদেশি এখানেও এসেছে, যারা আমাদের বিশ্বাস করেছিল। এই শতাব্দীতে এমন কীর্তি আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় এক প্রাপ্তি।’