সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের দিকে প্রশ্ন ছোঁড়া হলো, ডারউইন টেস্টের ম্যান অব দ্য ম্যাচ কে? জবাবে নির্দিষ্ট কারও নাম নিলেন না টাইগার অধিনায়ক। বললেন, ‘সত্যি বলতে, আমার কাছে ম্যান অব দ্য ম্যাচ বাংলাদেশ দল।’ ভুল কিছু বলেননি শান্ত। এই টেস্টে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে দলীয় চেষ্টায়। প্রথম ইনিংসে লিটন কুমার দাস ও ইবাদত হোসেন ছাড়া বাকি ৯ ব্যাটারই দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন। তিন পেসার মিলে তুলে নিয়েছেন ১০ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিংয়েও দলীয় প্রচেষ্টা দেখা গেছে। পরে ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় একমাত্র ব্যাটার হিসেবে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমই আউট হন। তবুও এই টেস্টের নায়ক খুঁজে বের করতে গেলে তিনজনের নাম সবার আগে চলে আসবে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে বেঁধে ফেলার কারিগর পেসার হাসান মাহমুদ। ডানহাতি পেসারের দাপুটে বোলিংয়ের পর তানজিদের রেকর্ডময় সেঞ্চুরি। আর নামের প্রতি সুবিচার করা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজ শুরুর অনেক আগে থেকেই গতিময় পেসার নাহিদ রানাকে নিয়ে হোমওয়ার্ক করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই নাহিদ পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন। ডানহাতি এ পেসারের উপস্থিতি টের পেতে দেননি হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার টপঅর্ডারকে দাঁড়াতেই দেননি। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফারের দেখা পান এ পেসার। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে নেন ৬ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসেও হাসানের শিকার ৩ উইকেট। ১১১ রান খরচায় ৯ উইকেট নিয়ে দেশের বাহিরে এক টেস্টে সেরা বোলিং ফিগার এখন হাসানের। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সেরা সাফল্য। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে সেঞ্চুরি পাওয়া তানজিদের জন্যও ডারউইনের ম্যাচটা স্পেশাল। হারারে টেস্টের পর প্রস্তুতি ম্যাচেও বাঁহাতি এ ব্যাটারের ব্যাট হাসেনি। সেই তানজিদ অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম ইনিংসেই পান সেঞ্চুরির দেখা। সাদা পোশাকে শাহরিয়ার নাফিসের প্রথম দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অজিদের বিপক্ষে করেন সেঞ্চুরি। ৮ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ১০১ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। কিছুদিন আগে ওয়ানডে নেতৃত্ব হারানো মেহেদী হাসান মিরাজ তো ব্যাটে-বলে সমানতালে পারফর্ম করেছেন।
প্রথম ইনিংসে ৩০৮ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর টেলেন্ডারদের সঙ্গে ব্যাট করে ৬৫ রান করেন। ডানাহতি এ ব্যাটারের দৃঢ়তায় ২২৮ রানের লিড পায়। প্রথম ইনিংসে উইকেট শূন্য থাকা মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ভুগিয়েছেন। বিশেষ করে স্টিভ স্মিথের নেয়া উইকেটটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। চতুর্থ দিনেও বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।
