দাগনভূঞা থানার ওসি’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু

প্রত্যাহার না হওয়ায় ক্ষোভ

দাগনভূঞা থানার ওসি’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু

ফন্ট সাইজ:

ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমানকে আদালতের নির্দেশের পরও প্রত্যাহার না করায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অথচ আদেশের পর আদালতে গিয়েও প্রত্যাখ্যাত হন ওসি। গেল বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে খাসকামরায় দেখা করতে না পেরে এজলাসে হাজির হয়ে বিচারককে তিনবার স্যালুট দিয়ে কৃপার আবেদন করেন ওসি। আদালত স্পষ্ট জানান, আদেশ আদেশই। এদিকে, এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এই কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রোববার সকালে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা ও দাপ্তরিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মু. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- ডিআইও-১ মুহাম্মদ রশীদ এবং পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ক্রাইম) হায়দার। ?তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল ইসলাম জানান, রোববার থেকেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। ?এর আগে, ৯ই আগস্ট ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগে দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। ?আদালত সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার বিবি মারজাহান (২৪) নামের এক গৃহবধূ যৌতুকের দাবিতে স্বামীর পরিবারের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হন।

পরে তিনি আদালতে
অভিযোগ দিলে বিচারক আলামত ও চিকিৎসার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সেটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করতে নির্দেশ দেন। শুনানি চলাকালে একই উপজেলার কেরোনীয়া গ্রামের তানিয়া আক্তার (২২) নামের আরেক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় মামলা না নেয়ার বিষয়টিও আইনজীবীরা আদালতের নজরে আনেন। ?পৃথক দুই ঘটনায় ওসি’র দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়ে আদালত তাকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ১২ই আগস্ট ওই পুলিশ কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে বিচারক তাকে জানান, ওসি’র সঙ্গে আদালতের কোনো কাজ নেই।