পুঠিয়া রাজবাড়ীতে পালঙ্কসহ ঐতিহাসিক সরঞ্জাম উদ্ধার, ঠাঁই হবে জাদুঘরে

পুঠিয়া রাজবাড়ীতে পালঙ্কসহ ঐতিহাসিক সরঞ্জাম উদ্ধার, ঠাঁই হবে জাদুঘরে

ফন্ট সাইজ:

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শনের একটি পালঙ্ক উদ্ধার করা হয়েছে। চারআনি রাজবংশের শেষ রাজা নরেশ নারায়ণের দ্বিতীয় স্ত্রী কমর বেগমের ব্যবহৃত পালঙ্কটি দীর্ঘদিন পর স্থানীয় একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই অভিযানে রাজবাড়ির পুরনো একটি খাট, ড্রেসিং টেবিলের অংশ ও তিনটি ঝাড়বাতিও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নিদর্শন পুঠিয়া রাজবাড়ির জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। রোববার দুপুরে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের নেতৃত্বে উপজেলার একটি দল এ অভিযান চালায়। পুঠিয়া রাজবাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে স্থানীয় মাছচাষি ইলুর বাড়ি থেকে কমর বেগমের পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয়। পরে পাশের ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি থেকে একটি পুরনো খাট ও ড্রেসিং টেবিলের অংশ বিশেষ এবং ভোলানাথ দত্তের বাড়ি থেকে তিনটি ঝাড়বাতি উদ্ধার করা হয়।

ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, স্থানীয় এক মাছচাষির বাড়িতে রাজবাড়ির পালঙ্ক থাকার বিষয়টি জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের নজরে আসে। তার নির্দেশনার পর পালঙ্কসহ রাজবাড়ির পুরনো নিদর্শন উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়। উদ্ধার করা সামগ্রীগুলো রাজবাড়ির জাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইলু জানান, তার বাবা আবদুর রহমান খান পেশায় স্কুলশিক্ষক ছিলেন। ১৯৯১ সালের দিকে কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল তার কাছে পালঙ্কটি বিক্রি করেন। তিন মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে তার বাবা প্রায় ১০ হাজার টাকায় পালঙ্কটি কিনেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ওই পালঙ্কেই ঘুমাতেন ইলু।

রোববার দুপুর থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলা অভিযানে পুঠিয়া রাজবাড়ির কাস্টোডিয়ান হাফিজ উদ্দিন, পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আসাদুল ইসলাম আসাদ, পুঠিয়া সাংবাদিক সমাজের সভাপতি ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ডলার, পুঠিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক রুবেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ওয়াসিমুল হক, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিপন রেজা, যুবদল নেতা রোকনুজ্জামান রিকো, গোলাম কিবরিয়াসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।