অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে রূপকথার জন্ম দিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা রচনা করলো নতুন এক অধ্যায়। ২০১৭ সালের মিরপুর টেস্টের পর এবার অজিদের মাটিতে তাদেরই চূর্ণ করে ঐতিহাসিক এই সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ দল। ম্যাচ শেষে পরাজয়ের কোনো অজুহাত না খুঁজে টাইগার ক্রিকেটারদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমকে কামিন্স স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সব বিভাগেই তাদের ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত প্রথম দিনই আমরা হেরে বসেছিলাম। আমার মনে হয় আমাদের প্রস্তুতি একদম সঠিক ছিল, কোনো অজুহাত নেই। তারা খেলার সব বিভাগেই আমাদের চেয়ে সেরা ছিল। তারা যথেষ্ট ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা দেখিয়েছে।’
অজি অধিনায়ক আরও বলেন, ‘তারা সত্যিই ভালো খেলেছে। আমাদের আরও দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার পথ খুঁজে নিতে হতো, আর এরপর আমরা বল হাতেও যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারিনি।’ প্রথম ইনিংসে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে হাসান মাহমুদের পেস তোপে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ওপর ভর করে ৪২৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৬টি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টিসহ মোট ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন পেসার হাসান মাহমুদ।
এ ছাড়া বল হাতে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার পেছনে নিজেদের পারফরম্যান্সের ঘাটতির কথা স্বীকার করেন কামিন্স। তবে সামনের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। কামিন্স বলেন, ‘ম্যাচটি মাত্র শেষ হলো, তাই এটি নিয়ে আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবো। তবে আমরা বেশ ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’ ডারউইনের এই ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের এমন অকপট স্বীকারোক্তি ও প্রশংসা বিশ্ব ক্রিকেটে টাইগারদের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই এক জোরালো স্বীকৃতি।
