আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন। ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার হরণকারী মেয়াদোত্তীর্ণ ২০২৩ সালে ঘোষিত চা শ্রমিকদের মজুরি গেজেট বাতিল, অবিলম্বে চা শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। গতকাল রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্মারকলিপি প্রদানের পূর্ববর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আবু জাফর, সহ-সভাপতি কাজল রায়, অর্থ সম্পাদক প্রেমকুমার পাল, করিমপুর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি গণেশ বড়কুর্মী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে মিছিলসহকারে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে নেতৃবৃন্দরা স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় ৯ই এপ্রিল সংশোধিত শ্রম আইনে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য গঠিত বোর্ড ২০২১ সালের জুনে খসড়া সুপারিশ প্রকাশ করলেও তা ১০ই আগস্ট ২০২৩ সালে চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
সেক্ষেত্রে গত ৯ই আগস্ট ২০২৬ ঘোষিত মজুরির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং ছয় মাস পূর্বেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের যৌক্তিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে ঘোষিত মজুরির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টিকে আড়াল করতে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ ১০ গত আগস্ট ৫% বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে নতুন মজুরির নোটিশ জারি করেছে। চা বাগান মালিকদের এই ঘোষণা চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। বিভিন্ন মাত্রায় মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের ক্ষোভের প্রকাশ করেছেন।
